ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গোটা বিশ্বের নজর এখন ভারতের নির্বাচনের দিকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪ ১২ বার পড়া হয়েছে
আলো দেখতে হলে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়(ভারত)।।
বিশ্বের বৃহত্তম গনতন্ত্র ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় ভরপুর দেশবাসী। সারা বিশ্ব মুখিয়ে রয়েছে ফলাফলের দিকে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের সব কটি রাজ্যে এ পর্যন্ত ভোট পর্ব নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে শুরু থেকেই হাতাহাতি,হানাহানি, খুনোখুনি, বুথ দখলের ঘটনা সামনে এসেছে।
এখানে মুখ্য রাজনৈতিক দল মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের তৃনমূল কংগ্রেস এবং প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি( বিজেপি)।
পশ্চিমবঙ্গে বরাবরই ভোট যুদ্ধে হানাহানির ফলে এবারেও এখানে ৭ দফায় ভোট করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ষষ্ঠ দফার ভোট শেষ। অনেক রক্ত ঝরেছে। বুথ দখলের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য পুলিস সম্পূর্ন নিস্ক্রিয়। কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনীর চোখের সম্মুখেও হামলা হয়েছে। কিন্তু কার্যত তারাও নিরব। তাদের কোনরকম বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক স্থানেই অরাজকতা হয়েছে।
আজ সপ্তম ও শেষ দফার ভোট চলছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে।এগুলি হলো, দমদম, বারাসত,বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, উওর কোলকাতা, দক্ষিণ কোলকাতা। এই ৯ টি কেন্দ্রের ৫ টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।
আজ সপ্তম ও শেষ দফার ভিটে দেশবাসীর উৎসাহ উদ্দীপনা যথেষ্ট লক্ষ্য করা গেছে।
সারা দেশে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি ৬ টি রাজ্য এবং ১ টি কেন্দ্রশাসিত রাজ্যের মোট ৫৭ টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে।
এই কেন্দ্রগুলি হোলো,পাঞ্জাবে ১৩ টি, হিমাচল প্রদেশে ৪ টি, উত্তর প্রদেশে ১৩ টি, বিহারে ৮ টি, ওড়িশায় ৬ টি, ঝাড়খন্ডে ৩ টি এবং কেন্দ্রশাসিত রাজ্যে ১ টি।
হেভিওয়েট প্রার্থী:
সপ্তম ও শেষ পর্বের ভোটে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, বিহারে লালু প্রসাদ যাদবের কন্যা মিস ভারতী, অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত, রবি কিষান, নিশিকান্ত দুবে প্রমুখ।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলো আজ সন্ধ্যে ৬ টার আগে কোনরকম  বুথ ফেরৎ অর্থাৎ Exit poll এর কোন তথ্য প্রকাশ করতে পারবেনা।
সারা দেশে প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৬৬.১৪ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৬৬.৭১, তৃতীয় দফায়, ৬৫.৬৮, চতুর্থ দফায় ৬৯.১৫, পঞ্চম দফায় ৬২ ২, ষষ্ঠ দফায় ৬৩.৩৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে তথা কোলকাতায় প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন গত ২৯ মে। তাকে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স (এনডিএ) লড়ছে মুখ্য পাঁচটি দল নিয়ে। বাকি কয়েকটি ছোট দল। তিনি তার দলকে পঞ্চ পাণ্ডব বলে উল্লেখ করেন। মহাভারতের পাণ্ডবদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন,সত্যের জয় সর্বত্র। অপরদিকে সম্মিলিত বিরোধী দল ইন্ডী এলয়েন্স কে কৌরবদের শতপুত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি মনে করেন তার দল সবচেয়ে ভালো ফল করবে পশ্চিমবঙ্গে।
এদিকে মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, তৃনমূল কংগ্রেস বাংলায় ৪২ টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৫ টি আসন পাবে। তার ভাইপো আরো একধাপ নিচে নেমে বলেন, তৃনমূল কংগ্রেস ভোট হয়ে যাওয়া ৩৩ টি আসনের মধ্যে ২৩ টি পেয়ে গেছে। বাকি ৯ টি শেষ দফার ভোটেও  ৭ টি আসন পাবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে আবারও কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির সরকারই আসছে।
গত দুদিন কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখলাম “জয় বাংলা” ও ” জয় শ্রী রাম” স্লোগানের লড়াই।
মমতা বলছেন কেন্দ্রে মোদির সরকারের পতন অনিবার্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান মন্ত্রী কে হবেন? কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্য মন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই প্রধান মন্ত্রী পদের দাবিদার। সারা দেশে কংগ্রেসের সম্ভাবনা মাত্র তিনটি রাজ্যে। সেখানে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হবার অংক কিছুতেই মেলানো যাচ্ছেনা। যদিও সারা দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চার মধ্যে রয়েছেন মোদি ও মমতা। মোদি  কন্যাকুমারিতে ৪৭ ঘণ্টার ধ্যানে বসেছেন। মমতা কটাক্ষ করে বলেছেন, ভন্ড তপস্বী। ক্যামেরা বাহিনী নিয়ে কেউ ধ্যান করেন? ওদিকে বিজেপি বলেছে, মমতা সহ বিরোধীদের মুখ বন্ধ রাখতেই ক্যামেরা থাকবে ৪৮ ঘণ্টার নজরদারিতে। অন্যথায় পরে বলতে পারে মোদি ধ্যানে বসেন নি। মমতা এটাকে নাটক বললে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন গতবার বিধান সভা ভোটের সময় মমতা পায়ে প্লাস্টার লাগিয়ে ভোট প্রচার করার সময় বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টার খুলে ফেলেছিলেন। মমতাকে তিনি নাটক পরিবেশনের অভিযোগ আনেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর এসেছে এই পর্যন্ত।
কে কোথায় লড়ছেন?
দমদমের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ সৌগত রায় বনাম বিজেপির শীলভদ্র দত্ত বনাম সিপিএমের হয়ে লড়ছেন সুজন চক্রবর্তী। যাদবপুরে তৃণমূল প্রার্থী হাজি নরুল ইসলামের প্রতিপক্ষ বিজেপির রেখা পাত্র বনাম সিপিএম প্রার্থী নিরাপদ সর্দার। ডায়মন্ডহারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ সিপিএমের প্রতীক উর রহমান এবং বিজেপির অভিজিৎ দাস। যাদবপুরে তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ বনাম বাম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য ও বিজেপির ডা. অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। বারাসাত কেন্দ্রে ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রতিপক্ষ বিজেপির স্বপন মজুমদার এবং বামেদের প্রার্থী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। বসিরহাটের সন্দেশখালি এবার সবথেকে আলোচিত কেন্দ্র। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে নজর থাকবে সারা দেশের। কলকাতা উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা বিজেপির তাপস রায়।
ফলাফল ঘোষণার তারিখ ৪ জুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গোটা বিশ্বের নজর এখন ভারতের নির্বাচনের দিকে

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
আলো দেখতে হলে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়(ভারত)।।
বিশ্বের বৃহত্তম গনতন্ত্র ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় ভরপুর দেশবাসী। সারা বিশ্ব মুখিয়ে রয়েছে ফলাফলের দিকে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের সব কটি রাজ্যে এ পর্যন্ত ভোট পর্ব নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে শুরু থেকেই হাতাহাতি,হানাহানি, খুনোখুনি, বুথ দখলের ঘটনা সামনে এসেছে।
এখানে মুখ্য রাজনৈতিক দল মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের তৃনমূল কংগ্রেস এবং প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি( বিজেপি)।
পশ্চিমবঙ্গে বরাবরই ভোট যুদ্ধে হানাহানির ফলে এবারেও এখানে ৭ দফায় ভোট করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ষষ্ঠ দফার ভোট শেষ। অনেক রক্ত ঝরেছে। বুথ দখলের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য পুলিস সম্পূর্ন নিস্ক্রিয়। কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনীর চোখের সম্মুখেও হামলা হয়েছে। কিন্তু কার্যত তারাও নিরব। তাদের কোনরকম বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক স্থানেই অরাজকতা হয়েছে।
আজ সপ্তম ও শেষ দফার ভোট চলছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে।এগুলি হলো, দমদম, বারাসত,বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, উওর কোলকাতা, দক্ষিণ কোলকাতা। এই ৯ টি কেন্দ্রের ৫ টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।
আজ সপ্তম ও শেষ দফার ভিটে দেশবাসীর উৎসাহ উদ্দীপনা যথেষ্ট লক্ষ্য করা গেছে।
সারা দেশে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি ৬ টি রাজ্য এবং ১ টি কেন্দ্রশাসিত রাজ্যের মোট ৫৭ টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে।
এই কেন্দ্রগুলি হোলো,পাঞ্জাবে ১৩ টি, হিমাচল প্রদেশে ৪ টি, উত্তর প্রদেশে ১৩ টি, বিহারে ৮ টি, ওড়িশায় ৬ টি, ঝাড়খন্ডে ৩ টি এবং কেন্দ্রশাসিত রাজ্যে ১ টি।
হেভিওয়েট প্রার্থী:
সপ্তম ও শেষ পর্বের ভোটে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, বিহারে লালু প্রসাদ যাদবের কন্যা মিস ভারতী, অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত, রবি কিষান, নিশিকান্ত দুবে প্রমুখ।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলো আজ সন্ধ্যে ৬ টার আগে কোনরকম  বুথ ফেরৎ অর্থাৎ Exit poll এর কোন তথ্য প্রকাশ করতে পারবেনা।
সারা দেশে প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৬৬.১৪ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৬৬.৭১, তৃতীয় দফায়, ৬৫.৬৮, চতুর্থ দফায় ৬৯.১৫, পঞ্চম দফায় ৬২ ২, ষষ্ঠ দফায় ৬৩.৩৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে তথা কোলকাতায় প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন গত ২৯ মে। তাকে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স (এনডিএ) লড়ছে মুখ্য পাঁচটি দল নিয়ে। বাকি কয়েকটি ছোট দল। তিনি তার দলকে পঞ্চ পাণ্ডব বলে উল্লেখ করেন। মহাভারতের পাণ্ডবদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন,সত্যের জয় সর্বত্র। অপরদিকে সম্মিলিত বিরোধী দল ইন্ডী এলয়েন্স কে কৌরবদের শতপুত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি মনে করেন তার দল সবচেয়ে ভালো ফল করবে পশ্চিমবঙ্গে।
এদিকে মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, তৃনমূল কংগ্রেস বাংলায় ৪২ টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৫ টি আসন পাবে। তার ভাইপো আরো একধাপ নিচে নেমে বলেন, তৃনমূল কংগ্রেস ভোট হয়ে যাওয়া ৩৩ টি আসনের মধ্যে ২৩ টি পেয়ে গেছে। বাকি ৯ টি শেষ দফার ভোটেও  ৭ টি আসন পাবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে আবারও কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির সরকারই আসছে।
গত দুদিন কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখলাম “জয় বাংলা” ও ” জয় শ্রী রাম” স্লোগানের লড়াই।
মমতা বলছেন কেন্দ্রে মোদির সরকারের পতন অনিবার্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান মন্ত্রী কে হবেন? কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্য মন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই প্রধান মন্ত্রী পদের দাবিদার। সারা দেশে কংগ্রেসের সম্ভাবনা মাত্র তিনটি রাজ্যে। সেখানে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হবার অংক কিছুতেই মেলানো যাচ্ছেনা। যদিও সারা দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চার মধ্যে রয়েছেন মোদি ও মমতা। মোদি  কন্যাকুমারিতে ৪৭ ঘণ্টার ধ্যানে বসেছেন। মমতা কটাক্ষ করে বলেছেন, ভন্ড তপস্বী। ক্যামেরা বাহিনী নিয়ে কেউ ধ্যান করেন? ওদিকে বিজেপি বলেছে, মমতা সহ বিরোধীদের মুখ বন্ধ রাখতেই ক্যামেরা থাকবে ৪৮ ঘণ্টার নজরদারিতে। অন্যথায় পরে বলতে পারে মোদি ধ্যানে বসেন নি। মমতা এটাকে নাটক বললে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন গতবার বিধান সভা ভোটের সময় মমতা পায়ে প্লাস্টার লাগিয়ে ভোট প্রচার করার সময় বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টার খুলে ফেলেছিলেন। মমতাকে তিনি নাটক পরিবেশনের অভিযোগ আনেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর এসেছে এই পর্যন্ত।
কে কোথায় লড়ছেন?
দমদমের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ সৌগত রায় বনাম বিজেপির শীলভদ্র দত্ত বনাম সিপিএমের হয়ে লড়ছেন সুজন চক্রবর্তী। যাদবপুরে তৃণমূল প্রার্থী হাজি নরুল ইসলামের প্রতিপক্ষ বিজেপির রেখা পাত্র বনাম সিপিএম প্রার্থী নিরাপদ সর্দার। ডায়মন্ডহারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ সিপিএমের প্রতীক উর রহমান এবং বিজেপির অভিজিৎ দাস। যাদবপুরে তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ বনাম বাম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য ও বিজেপির ডা. অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। বারাসাত কেন্দ্রে ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রতিপক্ষ বিজেপির স্বপন মজুমদার এবং বামেদের প্রার্থী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। বসিরহাটের সন্দেশখালি এবার সবথেকে আলোচিত কেন্দ্র। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে নজর থাকবে সারা দেশের। কলকাতা উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা বিজেপির তাপস রায়।
ফলাফল ঘোষণার তারিখ ৪ জুন।