ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘গলি থেকে রাজপথ’ বৃটেনের প্রধান মন্ত্রীর স্ত্রীর উত্থানের নেপথ্যে এক বাঙালি 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪ ১৩ বার পড়া হয়েছে
ছবি: ঋষি সুনাকের স্ত্রী অক্ষতা সাথে দুই সন্তান
ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
সে অনেক দিনের কথা। বাঙ্গালোরের এক আধ্যাপিকার মহানুভবতার কাহিনী। সঙ্গে সঙ্গে এক অনাথ মেয়ের সম্পূর্ন গলি থেকে রাজপথ পর্যন্ত পৌঁছনোর অনেকটাই অজানা যাত্রাপথ।
মুম্বাই থেকে ব্যাঙ্গালোরে যাচ্ছিল একটি ট্রেন। ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) টিকিট পরীক্ষা করছিলেন। সেই সময় ট্রেনে সফরকারী একটি মেয়ে হঠাৎ সিটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। মেয়েটির বয়স ১৩ অথবা ১৪ বছর হবে।
টিটিই সাহেব সেটি লক্ষ্য করে তাকে ওপরে উঠতে নির্দেশ দেন। তিনি মেয়েটির কাছে টিকিট দেখতে চান। মেয়েটি ইতঃস্তত করে উত্তর দেয় তার কাছে কোন টিকিট নেই।
টিকিট পরীক্ষক তাকে পরবর্তী স্টেশনে নেমে যাবার নির্দেশ দেন। মেয়েটি সেকথা শুনে কাঁদতে থাকে।
হঠাৎ পিছনের একটি আসন থেকে এক বাঙ্গালীর মহিলার কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। তিনি একটি কলেজের অধ্যাপিকা। নাম ঊষা ভট্টাচার্য। তিনি টিটিই কে বলেন মেয়েটি তার সাথে এসেছে। তিনি টিকিটের পুরো টাকা মিটিয়ে দেন। মেয়েটিকে তার পাশে গিয়ে বসতে বলেন। মেয়েটি কাচুমাচু করে তার পাশে গিয়ে বসে।
ঊষা দেবী তার নাম জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে মেয়েটি জানায় তার নাম ” চিত্রা”।
“তুমি কোথায় যাবে?”
মেয়েটি বলে তার কোথাও যাবার জায়গা নেই।
ঊষা দেবী বলেন,ঠিক আছে,তুমি আমার সাথে চলো।
ব্যাঙ্গালোরে পৌঁছেই দুএক দিন পর ঊষা দেবী মেয়েটিকে একটি এনজিও র ( স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা) কাছে মেয়েটিকে হস্তান্তর করে তার দেখাশোনা ও যত্ন করার দায়িত্ব দিয়ে দেন এবং সমস্ত খরচা বাবদ টাকা দিয়ে দেন। তার কিছুদিন পর ঊষা দেবী দিল্লিতে চলে যান। দুজনের যোগাযোগ সম্পূর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রায় ২০ বছর পর মিসেস ভট্টাচার্যকে সান ফ্রান্সিসকো (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) একটি কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এক মহিলা একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন।খাবার খাচ্ছিলেন।
ঊষা দেবীও খাবার খেয়ে বিল চাইলে রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয় তার বিল ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলে এক মহিলা তার পাশে গিয়ে দাঁড়ান।
ঊষা দেবী তার পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি বলেন তার নাম চিত্রা । বিখ্যাত এনফোসিসের ডিরেক্টর নারায়ন মূর্তির স্ত্রী । ঊষা দেবীই একদিন তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে একটি এন জী ওর মাধ্যমে শিক্ষিত করে তুলেছিলেন।
এই চিত্রা মূর্তির’ই কন্যার নাম অক্ষতা সুনক। ব্রিটেনের প্রধান মন্ত্রী ঋষি সুনাকের স্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘গলি থেকে রাজপথ’ বৃটেনের প্রধান মন্ত্রীর স্ত্রীর উত্থানের নেপথ্যে এক বাঙালি 

আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪
ছবি: ঋষি সুনাকের স্ত্রী অক্ষতা সাথে দুই সন্তান
ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
সে অনেক দিনের কথা। বাঙ্গালোরের এক আধ্যাপিকার মহানুভবতার কাহিনী। সঙ্গে সঙ্গে এক অনাথ মেয়ের সম্পূর্ন গলি থেকে রাজপথ পর্যন্ত পৌঁছনোর অনেকটাই অজানা যাত্রাপথ।
মুম্বাই থেকে ব্যাঙ্গালোরে যাচ্ছিল একটি ট্রেন। ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) টিকিট পরীক্ষা করছিলেন। সেই সময় ট্রেনে সফরকারী একটি মেয়ে হঠাৎ সিটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। মেয়েটির বয়স ১৩ অথবা ১৪ বছর হবে।
টিটিই সাহেব সেটি লক্ষ্য করে তাকে ওপরে উঠতে নির্দেশ দেন। তিনি মেয়েটির কাছে টিকিট দেখতে চান। মেয়েটি ইতঃস্তত করে উত্তর দেয় তার কাছে কোন টিকিট নেই।
টিকিট পরীক্ষক তাকে পরবর্তী স্টেশনে নেমে যাবার নির্দেশ দেন। মেয়েটি সেকথা শুনে কাঁদতে থাকে।
হঠাৎ পিছনের একটি আসন থেকে এক বাঙ্গালীর মহিলার কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। তিনি একটি কলেজের অধ্যাপিকা। নাম ঊষা ভট্টাচার্য। তিনি টিটিই কে বলেন মেয়েটি তার সাথে এসেছে। তিনি টিকিটের পুরো টাকা মিটিয়ে দেন। মেয়েটিকে তার পাশে গিয়ে বসতে বলেন। মেয়েটি কাচুমাচু করে তার পাশে গিয়ে বসে।
ঊষা দেবী তার নাম জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে মেয়েটি জানায় তার নাম ” চিত্রা”।
“তুমি কোথায় যাবে?”
মেয়েটি বলে তার কোথাও যাবার জায়গা নেই।
ঊষা দেবী বলেন,ঠিক আছে,তুমি আমার সাথে চলো।
ব্যাঙ্গালোরে পৌঁছেই দুএক দিন পর ঊষা দেবী মেয়েটিকে একটি এনজিও র ( স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা) কাছে মেয়েটিকে হস্তান্তর করে তার দেখাশোনা ও যত্ন করার দায়িত্ব দিয়ে দেন এবং সমস্ত খরচা বাবদ টাকা দিয়ে দেন। তার কিছুদিন পর ঊষা দেবী দিল্লিতে চলে যান। দুজনের যোগাযোগ সম্পূর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রায় ২০ বছর পর মিসেস ভট্টাচার্যকে সান ফ্রান্সিসকো (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) একটি কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এক মহিলা একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন।খাবার খাচ্ছিলেন।
ঊষা দেবীও খাবার খেয়ে বিল চাইলে রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয় তার বিল ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলে এক মহিলা তার পাশে গিয়ে দাঁড়ান।
ঊষা দেবী তার পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি বলেন তার নাম চিত্রা । বিখ্যাত এনফোসিসের ডিরেক্টর নারায়ন মূর্তির স্ত্রী । ঊষা দেবীই একদিন তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে একটি এন জী ওর মাধ্যমে শিক্ষিত করে তুলেছিলেন।
এই চিত্রা মূর্তির’ই কন্যার নাম অক্ষতা সুনক। ব্রিটেনের প্রধান মন্ত্রী ঋষি সুনাকের স্ত্রী।