ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আটকে আছে ৫ লাখ আবেদনকারীর স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪ ১৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার এক সার্কেলেই আটকে আছে দেড় লাখ কার্ড..উদাসীন বিআরটিএ!

 

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

 

লাইসেন্স পাওয়ার সকল ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন না ৫ লাখেরও অধিক আবেদনকারী। ঢাকার এক সার্কেলেই আটকে পরে আছে প্রায় দেড় লাখ আবেদন। কারণ হিসেবে জানা গেছে কার্ড সরবরাহ করতে পারছে না সংস্থাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।এসকল কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট কার্ডের আশায় মাসের পর মাস বিআরটিএ’র জেলা ও সার্কেল অফিস থেকে প্রধান কার্যালয়ে ঘুরছেন লাইসেন্স প্রত্যাশীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড না মেলায় চাকরি পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চালক পদে আবেদনকারী অনেকেই। জীবিকার তাগিদে অনেকের বিদেশযাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও লাইসেন্স নবায়ন করে স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন অনেক পেশাদার চালক।

বিআরটিএ’র তথ্যমতে জানা গেছে, কার্ডের সংকট থাকায় ৫ লাখের মতো আবেদন এখনো ঝুলে আছে। ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর) এই এক সার্কেলেই আটকে আছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার আবেদন। ঢাকা জেলা সার্কেল ইকুরিয়াতে আছে ৪০ হাজারের বেশি এবং আরো অনেক জেলাতে একই অবস্থা, তবে ঢাকা সবচেয়ে নিকটবর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের অবস্থাও ভয়াবহ । তবে জরুরি বিশেষ প্রয়োজনে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করে কিছু সংখ্যক স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায়। কিন্তু সেই সংখ্যা খুবই নগন্য। তারা জানিয়েছে সম্প্রতি বিমানবন্দরে কার্ডের বড় একটি চালান এসে পৌঁছেছে।

বিআরটিএ কে লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স (এমএসপি) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। তারা বলছে, ডলার সংকটের কারনে তারা কার্ড আমদানি করতে পারছে না। যখন চুক্তি হয় তখন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা,যা এখন ১১০ টাকারও বেশি।

মাদ্রাজ প্রিন্টার্সের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক আশরাফ বিন মুস্তফা জানিয়েছেন, আমদানি জটিলতায় কার্ড আনতে কিছুটা সমস্যা আছে। সেই সঙ্গে ডলারের একটা ক্রাইসিস তো আছেই। কার্ড সর্বরাহ যদি ঠিক থাকে তাহলে ৩ মাসের মধ্যে ৫ লাখ কার্ড প্রস্তুত করার সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে আশা করছি সামনে এই কার্ড সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

 

স্মার্ট কার্ড সংকটের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, বিআরটিএ এখন অনেক বেশি আধুনিক হয়ে গেছে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যায়। স্মার্ট কার্ডের কিছু সংকট আছে। তবে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য যাদের স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন তাদের আবেদনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তা ছাড়া বিমানবন্দরে তিন লাখের মতো কার্ড এসে গেছে। আশা করছি খুব দ্রুত এ স্মার্ট কার্ডের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আটকে আছে ৫ লাখ আবেদনকারীর স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪

ঢাকার এক সার্কেলেই আটকে আছে দেড় লাখ কার্ড..উদাসীন বিআরটিএ!

 

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

 

লাইসেন্স পাওয়ার সকল ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন না ৫ লাখেরও অধিক আবেদনকারী। ঢাকার এক সার্কেলেই আটকে পরে আছে প্রায় দেড় লাখ আবেদন। কারণ হিসেবে জানা গেছে কার্ড সরবরাহ করতে পারছে না সংস্থাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।এসকল কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট কার্ডের আশায় মাসের পর মাস বিআরটিএ’র জেলা ও সার্কেল অফিস থেকে প্রধান কার্যালয়ে ঘুরছেন লাইসেন্স প্রত্যাশীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড না মেলায় চাকরি পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চালক পদে আবেদনকারী অনেকেই। জীবিকার তাগিদে অনেকের বিদেশযাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও লাইসেন্স নবায়ন করে স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন অনেক পেশাদার চালক।

বিআরটিএ’র তথ্যমতে জানা গেছে, কার্ডের সংকট থাকায় ৫ লাখের মতো আবেদন এখনো ঝুলে আছে। ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর) এই এক সার্কেলেই আটকে আছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার আবেদন। ঢাকা জেলা সার্কেল ইকুরিয়াতে আছে ৪০ হাজারের বেশি এবং আরো অনেক জেলাতে একই অবস্থা, তবে ঢাকা সবচেয়ে নিকটবর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের অবস্থাও ভয়াবহ । তবে জরুরি বিশেষ প্রয়োজনে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করে কিছু সংখ্যক স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায়। কিন্তু সেই সংখ্যা খুবই নগন্য। তারা জানিয়েছে সম্প্রতি বিমানবন্দরে কার্ডের বড় একটি চালান এসে পৌঁছেছে।

বিআরটিএ কে লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করে মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স (এমএসপি) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। তারা বলছে, ডলার সংকটের কারনে তারা কার্ড আমদানি করতে পারছে না। যখন চুক্তি হয় তখন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা,যা এখন ১১০ টাকারও বেশি।

মাদ্রাজ প্রিন্টার্সের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক আশরাফ বিন মুস্তফা জানিয়েছেন, আমদানি জটিলতায় কার্ড আনতে কিছুটা সমস্যা আছে। সেই সঙ্গে ডলারের একটা ক্রাইসিস তো আছেই। কার্ড সর্বরাহ যদি ঠিক থাকে তাহলে ৩ মাসের মধ্যে ৫ লাখ কার্ড প্রস্তুত করার সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে আশা করছি সামনে এই কার্ড সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

 

স্মার্ট কার্ড সংকটের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, বিআরটিএ এখন অনেক বেশি আধুনিক হয়ে গেছে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যায়। স্মার্ট কার্ডের কিছু সংকট আছে। তবে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য যাদের স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন তাদের আবেদনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তা ছাড়া বিমানবন্দরে তিন লাখের মতো কার্ড এসে গেছে। আশা করছি খুব দ্রুত এ স্মার্ট কার্ডের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।