ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে আলমগীর হত্যার প্রতিবাদে ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর প্রতিনিধি।।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কৃষক আলমগীর মাতুব্বর হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯মে) সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের খারদিয়া-পীরেরচর রাস্তা সংলগ্নে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট খারদিয়া গ্রামের জনগণ ও নিহত আলমগীরের পরিবার অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মো. কাওছার মাতুব্বর, আইয়ুব মাতুব্বর, সোহেল বেগ, সাদেক মাতুব্বর, ইব্রাহিম মোল্লা, আব্দুল কুদ্দুস মাতুব্বর প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে কৃষক আলমগীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে নিহত কৃষক আলমগীরের তিন মেয়ে সাদিয়া আক্তার(২০), রহিমা বেগম(২২), রেবা বেগম (২৫) ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে বাবার খুনিদের বিচার দাবিতে কান্না শুরু করলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্ত্রী বিলকিছের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। নিহত আলমগীর ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছোট খারদিয়া গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়া মাতুব্বরের ছেলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, স্থানীয়দের তথ্য সূত্রে জানা গেছে,জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে গত ১৩ মে (শনিবার) বিকেলে শাহ আলম মাতু্ববর তার পৈত্তিক জমিতে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাতে বাঁধা দিলে আলমগীর মাতুব্বর তাদের নিষেধ করলে প্রতিপক্ষের লোজজন আলমগীর মাতুব্বরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বেআইনী জনতাবদ্ধে দেশীয়, ঢাল-সুড়কি, লোহার রড, রামদা ছ্যান, হাতুরি ইত্যাদি দিয়ে উপর্যপরি হামলা চালিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আলমগীর কে উদ্ধার করে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসারত অবস্থায় ১৪মে (রবিবার) তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম বাদি হয়ে কাওছার মাতুব্বর, ছরোয়ার মাতুব্বর, ছানু মাতুব্বর, নুরুল ইসলাম মোল্লা, বাবলু মাতুব্বরসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো পনেরো জনের নামে ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনায় একজন আসামি গ্রেফতার হলেও মূল আসামিরা এখনো অধোরা রয়েছে,বাকী অন্য আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় এবং নিহত পরিবারের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ সময় মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ সহ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারে ও স্থানীয় জনসাধারণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফরিদপুরে আলমগীর হত্যার প্রতিবাদে ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১২:৪০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি।।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কৃষক আলমগীর মাতুব্বর হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯মে) সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের খারদিয়া-পীরেরচর রাস্তা সংলগ্নে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট খারদিয়া গ্রামের জনগণ ও নিহত আলমগীরের পরিবার অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মো. কাওছার মাতুব্বর, আইয়ুব মাতুব্বর, সোহেল বেগ, সাদেক মাতুব্বর, ইব্রাহিম মোল্লা, আব্দুল কুদ্দুস মাতুব্বর প্রমুখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে কৃষক আলমগীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে নিহত কৃষক আলমগীরের তিন মেয়ে সাদিয়া আক্তার(২০), রহিমা বেগম(২২), রেবা বেগম (২৫) ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে বাবার খুনিদের বিচার দাবিতে কান্না শুরু করলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্ত্রী বিলকিছের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। নিহত আলমগীর ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছোট খারদিয়া গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়া মাতুব্বরের ছেলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, স্থানীয়দের তথ্য সূত্রে জানা গেছে,জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে গত ১৩ মে (শনিবার) বিকেলে শাহ আলম মাতু্ববর তার পৈত্তিক জমিতে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাতে বাঁধা দিলে আলমগীর মাতুব্বর তাদের নিষেধ করলে প্রতিপক্ষের লোজজন আলমগীর মাতুব্বরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বেআইনী জনতাবদ্ধে দেশীয়, ঢাল-সুড়কি, লোহার রড, রামদা ছ্যান, হাতুরি ইত্যাদি দিয়ে উপর্যপরি হামলা চালিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আলমগীর কে উদ্ধার করে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসারত অবস্থায় ১৪মে (রবিবার) তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম বাদি হয়ে কাওছার মাতুব্বর, ছরোয়ার মাতুব্বর, ছানু মাতুব্বর, নুরুল ইসলাম মোল্লা, বাবলু মাতুব্বরসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো পনেরো জনের নামে ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনায় একজন আসামি গ্রেফতার হলেও মূল আসামিরা এখনো অধোরা রয়েছে,বাকী অন্য আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় এবং নিহত পরিবারের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ সময় মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ সহ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারে ও স্থানীয় জনসাধারণ।