ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেপাল থেকে ফিরে এ-কি জানালেন ডিবি প্রধান হারুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪ ৫১ বার পড়া হয়েছে

 

 

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।

 

 

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনকে শিগ্রই  ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে এনসিবির মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছি। শাহীন যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাই আমরা ইন্টারপোলকেও অবহিত করেছি। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। ভারতও শাহীনকে দেশে ফেরাতে বিশেষ  ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। কারণ ভারতের কাছে শাহীন একজন মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি।

মঙ্গলবার (৪ জুন) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসকল কথা বলেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, শাহীনকে দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিগ্রই মিটিং করবো। তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।

নেপালে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময় বড় ধরনের অপরাধ করে নেপালে চলে যায় অনেক অপরাধী । আবার ভারত থেকে অনেক বাংলাদেশি অপরাধী নেপালে চলে যায়। রুট হিসেবে অনেক অপরাধী নেপালকে ব্যবহার করে। আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনও ভারত থেকে নেপালের কাঠমান্ডু গিয়ে অবস্থান করে। শাহীনের আরেক সহযোগী সিয়ামও কাঠমান্ডু গিয়ে আত্মগোপন করে। সিয়াম কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা থেকে নেপালের এনসিবিতে একটি চিঠি প্রেরণ করি। আমাদের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিয়ামকে কাঠমান্ডু পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ডিবিপ্রধান বলেন, কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্তরের পুলিশের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অপরাধী কাঠমান্ডু গিয়ে আত্মগোপন করে থাকে সেটিও তাদের বলে এসেছি। আমি মনে করি,এখন থেকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেপাল পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে আন্তরিকতা আরও বাড়বে। নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি অপরাধীরা গিয়ে ‘সেফ হোম’ বানাবে এটি আর হবে না; এই বার্তা কাঠমান্ডু পুলিশ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাঠমান্ডু পুলিশ আমাদের আনঅফিসিয়ালি জানিয়েছে, তারা সিয়ামকে গ্রেফতার করেছে।
সিয়ামকে ফেরত আনার বিষয়ে কোনও জটিলতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। তবে এ বিষয়েও আমরা কাঠমান্ডু পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। সিয়াম ভারতের পুলিশের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড। ভারতের সঙ্গে নেপালের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। নেপাল যদি ভারত কিংবা বাংলাদেশের কাছে সিয়ামকে হস্তান্তর করে তবে তদন্তে আর কোনো ধরনের কোনও সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, যদি একই অপরাধের ক্ষেত্রে দুটি দেশ দাবি করে তবে হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে নেপাল বিবেচনায় আনবে অপরাধের ধরনটা কী। হত্যা মামলা কোথায় সংগঠিত হয়েছে। নেপাল বিভিন্ন বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেবে সিয়ামকে কোন দেশের কাছে হস্তান্তর করবে।
হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, আমাদের ও ভারতের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান করছি ভারতের সঙ্গে। দুই দেশের তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে রহস্যের ধূম্রজাল  নিয়ে। সিয়ামকে ভারতের পুলিশের কাছে দিলেও আমাদের তদন্তে কোনও সমস্যা হবে না। মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনের ঘনিষ্ঠ ও কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত এই সিয়াম। যদি ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাহলে আলামত উদ্ধারের ক্ষেত্রে সে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমরাও তাকে যথার্থভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবো।

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে,
সম্প্রতি এমপি আনার অপহরণ মামলার তদারকি কর্মকর্তা শাহিদুর রহমানকে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। এতে তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে হারুন বলেন, বদলির বিষয়টি আমাদের পার্ট নয়। এটি পুলিশ সদর দফতরের একটি রুটিন ওয়ার্ক।

মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, এমপি আনারের পরিবার যাবে কলকাতায়। এরপর ডিএনএ স্যাম্পল টেস্ট ও ম্যাচ করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরো উল্লেখ্য, অনোয়ারুল আজীম আনার ঝিনাইদহ-৪ আসনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পর পর তিনবার নির্বাচিত এমপি। গত ১২ মে চিকিৎসার কথা বলে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান তিনি। সেখানে বরাহনগর থানার মগুলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলে তার আর খোঁজ মেলেনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন সাংসদ আনোয়ারুল আজীম আনার। এরপর
২২ মে বিকালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করছি আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নেপাল থেকে ফিরে এ-কি জানালেন ডিবি প্রধান হারুন

আপডেট সময় : ০৮:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪

 

 

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।

 

 

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনকে শিগ্রই  ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে এনসিবির মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছি। শাহীন যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাই আমরা ইন্টারপোলকেও অবহিত করেছি। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। ভারতও শাহীনকে দেশে ফেরাতে বিশেষ  ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। কারণ ভারতের কাছে শাহীন একজন মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি।

মঙ্গলবার (৪ জুন) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসকল কথা বলেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, শাহীনকে দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিগ্রই মিটিং করবো। তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।

নেপালে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময় বড় ধরনের অপরাধ করে নেপালে চলে যায় অনেক অপরাধী । আবার ভারত থেকে অনেক বাংলাদেশি অপরাধী নেপালে চলে যায়। রুট হিসেবে অনেক অপরাধী নেপালকে ব্যবহার করে। আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনও ভারত থেকে নেপালের কাঠমান্ডু গিয়ে অবস্থান করে। শাহীনের আরেক সহযোগী সিয়ামও কাঠমান্ডু গিয়ে আত্মগোপন করে। সিয়াম কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা থেকে নেপালের এনসিবিতে একটি চিঠি প্রেরণ করি। আমাদের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিয়ামকে কাঠমান্ডু পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ডিবিপ্রধান বলেন, কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্তরের পুলিশের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অপরাধী কাঠমান্ডু গিয়ে আত্মগোপন করে থাকে সেটিও তাদের বলে এসেছি। আমি মনে করি,এখন থেকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেপাল পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে আন্তরিকতা আরও বাড়বে। নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি অপরাধীরা গিয়ে ‘সেফ হোম’ বানাবে এটি আর হবে না; এই বার্তা কাঠমান্ডু পুলিশ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাঠমান্ডু পুলিশ আমাদের আনঅফিসিয়ালি জানিয়েছে, তারা সিয়ামকে গ্রেফতার করেছে।
সিয়ামকে ফেরত আনার বিষয়ে কোনও জটিলতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। তবে এ বিষয়েও আমরা কাঠমান্ডু পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। সিয়াম ভারতের পুলিশের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড। ভারতের সঙ্গে নেপালের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। নেপাল যদি ভারত কিংবা বাংলাদেশের কাছে সিয়ামকে হস্তান্তর করে তবে তদন্তে আর কোনো ধরনের কোনও সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, যদি একই অপরাধের ক্ষেত্রে দুটি দেশ দাবি করে তবে হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে নেপাল বিবেচনায় আনবে অপরাধের ধরনটা কী। হত্যা মামলা কোথায় সংগঠিত হয়েছে। নেপাল বিভিন্ন বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেবে সিয়ামকে কোন দেশের কাছে হস্তান্তর করবে।
হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, আমাদের ও ভারতের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান করছি ভারতের সঙ্গে। দুই দেশের তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে রহস্যের ধূম্রজাল  নিয়ে। সিয়ামকে ভারতের পুলিশের কাছে দিলেও আমাদের তদন্তে কোনও সমস্যা হবে না। মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনের ঘনিষ্ঠ ও কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত এই সিয়াম। যদি ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাহলে আলামত উদ্ধারের ক্ষেত্রে সে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমরাও তাকে যথার্থভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবো।

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে,
সম্প্রতি এমপি আনার অপহরণ মামলার তদারকি কর্মকর্তা শাহিদুর রহমানকে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। এতে তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে হারুন বলেন, বদলির বিষয়টি আমাদের পার্ট নয়। এটি পুলিশ সদর দফতরের একটি রুটিন ওয়ার্ক।

মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, এমপি আনারের পরিবার যাবে কলকাতায়। এরপর ডিএনএ স্যাম্পল টেস্ট ও ম্যাচ করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরো উল্লেখ্য, অনোয়ারুল আজীম আনার ঝিনাইদহ-৪ আসনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পর পর তিনবার নির্বাচিত এমপি। গত ১২ মে চিকিৎসার কথা বলে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান তিনি। সেখানে বরাহনগর থানার মগুলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলে তার আর খোঁজ মেলেনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন সাংসদ আনোয়ারুল আজীম আনার। এরপর
২২ মে বিকালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি, যার ভিত্তিতে মনে করছি আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি।