বিশেষ প্রতিবেদক।।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর ৭ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্র সৈকত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটিকে বলাৎকারের পর বলাৎকারের ঘটনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাতে সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কিশোরের বয়স ১৭ বছরের নিচে হওয়ায় আইনগত কারণে আসামি নাম ও ছবি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত কিশোর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে তথ্য উপাত্ত, আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজে ধারণা করা হচ্ছে, এই মির্মম হত্যাকাণ্ডে একমাত্র ওই কিশোরই জড়িত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এর আগে গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উত্তর নরসিংপুরের বক্তাবলী সড়কে হাসেম স্পিনিং মিলের পাশে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র সৈকতের মাথা থেতলানো রক্তাক্ত ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সৈকত গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা আঞ্জুর ছেলে। সে স্থানীয় মাহমুদিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল। তার বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং মা গার্মেন্টস কর্মী। পরিবারটি নরসিংপুরে হাসেম স্পিনিং মিল সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকে সৈকত নিখোঁজ ছিল। আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার হলে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে একাধিক টিম গঠন করা হয়।তদন্তের ধারাবাহিকতায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।





































































































