ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
‎ভুল তথ্যের কারণে ৫৪ বছর যাবৎ বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারেনি: নঈম জাহাঙ্গীর নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপার(এসপি) মিজানুর রহমানের যোগদান এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নতুন মোর; নির্বাচনের ঘোষণা ‘কিং মেকার’ মো. আলীর সিদ্ধিরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর তাকবির হত্যাকান্ড ও মুক্তিপন রহস্য উদ্ঘাটন কক্সবাজারে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ বাস হেল্পার আটক নান্দাইলে আগুনে পুড়ে ছাই হলো বসতঘর,সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় পরিবার কুষ্টিয়ায় দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা হাকালুকি হাওরে মাছ লুটের ঘটনায় মামলা টেকনাফে জেলের জালে ধরা পড়ল ১৬৬ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ভোল মাছ নারায়ণগঞ্জে ধানের শীষের কান্ডারী মাসুদুজ্জামানের জনসমাবেশ জনসমুদ্র পরিনত দলের প্রশ্নে আমরা সবাই এক, এখানে কোনও ভেদাভেদ নেই: আজাদ শরণখোলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪৫ হাজার জাল টাকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার শিকলে বাঁধা কিশোর শান্তকে দেখতে গেলেন কুষ্টিয়ার ডিসি অবশেষে প্রত্যাহার করা হলো এটিএম কামালের বহিষ্কারাদেশ নারায়ণগঞ্জে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএনপির মনোনীত মাসুদুজ্জামান দল ও নির্যাতিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতিনিধি: টিপু আপনারা রাজপথে না থাকলে, আজকের এ দিন আমরা দেখতাম না: নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মাসুদুজ্জামান টেকনাফে সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতিকালে নারী-শিশুসহ ২৮ জন উদ্ধার ‎ডেভিড’র অভাব একুশ বছরে জাতীয়তাবাদী দলের সকলে হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছি: মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত  না’গঞ্জে প্রয়াত যুবদল নেতা ডেভিডের ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত না’গঞ্জে প্রয়াত যুবদল নেতা ডেভিড’র মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রাইম বাবুল’র দোয়া মাহফিল দেশের ৬৪ জেলায় লটারির মাধ্যমে এসপির দায়িত্ব বণ্টন বড়লেখায় র‍্যাবের অভিযানে ৯১৪৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-১ সামনের দিনগুলোর গতিপথ নির্ধারণ করবে আগামীর নির্বাচন: শ্রীমঙ্গলে নবাগত ডিসি সিদ্ধিরগঞ্জে ৫১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি যুবক আটক বন্দরে মাসুম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ‘জামাই রানা’ ফতুল্লায় গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তার ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন নাকচ করলো ট্রাইবুনাল নারায়ণগঞ্জে পুলিশের টহল গাড়িতে ডাকাতের হানা হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ গাইবান্ধায় কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু মানবতাবিরোধী অপরাধে ফের ট্রাইব্যুনালে হাজির দুই সেনা কর্মকর্তা টেকনাফে বিজিবি-র‍্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ আটক-১ বিএনপি মনোনীত মাসুদুজ্জামানের পক্ষে বন্দর উপজেলায় বিশাল গণসংযোগ নরসিংদীতে বিএনপি’র প্রার্থী বকুলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মোটরসাইকেল শোডাউন আবারও ট্রাইব্যুনালে ১৩ সেনা কর্মকর্তা, অনলাইন হাজিরার আবেদন পঞ্চবটি-মুক্তারপুর উড়ালসড়কের কাজে তিতাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমর গ্রেপ্তার ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ষড়যন্ত্র ছিলো, আছে, চলবেই, আমরা কিছুতেই থামবো না: সম্প্রীতি সমাবেশে মান্নান টেকনাফে ষোল ঘন্টা বিজিবির অভিযানে ৯৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৪ সেন্টমার্টিনে জালে ধরা পরলো ৩২ কেজি ওজনের পোকা মাছ, মূল্য হাঁকানো হচ্ছে ৬ লাখ  নারায়ণগঞ্জের বসুন্ধরা সিমেন্ট কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ-৬ এবার ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেপে উঠলো গাজীপুর বন্দর উপজেলায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের গণসংযোগ জনস্রোতে পরিনত শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১১, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতেই-৫ জন মরিচ্যা চেকপোস্টে প্রাইভেট কার ও ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চিচিঙ্গা চাষে বাজিমাত ভূমিকম্পের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রূপগঞ্জে শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু, মা’সহ আহত-২ শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে ৪ জনের মৃত্যু, আহত শতাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেপে উঠলো সারাদেশ মালয়েশিয়ায় ফের ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক আটক তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা মারা গেছেন আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস ভোটের অধিকার ফিরে পেয়ে মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে উদগ্রীব: গণসংযোগে মাসুদুজ্জামান বিএনপি নেতা মুকুলের বাসায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জে রমজান হত্যারসহ একাধিক মামলার অন্যতম আসামি লিমন গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষক গাইবান্ধায় ১০ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভাঙল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪২ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নির্বাচনী কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও গতিশীলতা আনতে নারায়ণগঞ্জ-৫ এ-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন নরসিংদীতে ভিন্ন কৌশলে গাঁজা বহনকালে আটক-২ বাংলাদেশিদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ব্রিটিশ হাইক‌মিশন কারাবন্দি সাবেক নাসিক মেয়র আইভী আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার গভীর রাতে নিজ বাসা থেকে সাংবাদিক সোহেলকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি মাসুদুজ্জামান’কে ধানের শীষে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত ‘সুন্দর ও সঠিক’ হয়েছে টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ২০হাজার ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট নূর ফয়েজ গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক হিসেবে তৌহিদুজ্জামান পাভেলের যোগদান চট্টগ্রামে যোগ দিলেন নতুন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ লেখা ফটোকার্ড পোস্ট, ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আটক পল্লবীতে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিচারের রায় নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগ জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন শেখ হাসিনার রায় নিয়ে যা বলছে শেখ হাসিনার সাজা ও প্রত্যর্পণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্লেষণ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে না’গঞ্জ-৩, তারেক জিয়াকে উপহার দিতে পারব: মান্নান নান্দাইলে নবনিযুক্ত ইউএনও’কে ফুল দিয়ে বরন করে নিল কৃষকদল উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৮৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-২ কমলগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কুষ্টিয়ায় চাঞ্চল্যকর আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার-৩ বড়লেখার অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাময় বেকি লেক পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে  নারায়ণগঞ্জে র‍্যাব সদস্যকে ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নারী গুলিবিদ্ধ সব ভূলে অসুস্থ টিপুকে দেখতে ছুটে গেলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান ’প্রাইজ পোস্টিং’ পেয়ে আবেগাপ্লুত বিদায় নিলেন ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা  কুষ্টিয়া-২ আসন শহিদুল ইসলামকে বিএনপির প্রার্থী করার দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধায় মাদ্রাসা সুপারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন টেকনাফ ভুমি অফিস পরিদর্শনে ভুমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ‘আমাকে খুঁইজেন না, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে আছি, ভালো আছি’ পুলিশকে নিখোঁজ তরুণীর বার্তা নান্দাইলে ৪’শ বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে অনুষ্ঠিত হলো পারিবারিক মেলবন্ধন তৃতীয় লিঙ্গের মডেল জারার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার,থানায় জিডি চকরিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে শীর্ষ ডাকাত সাইফুলের বসত ঘরে থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার না’গঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় কৃষকদল নেতার ওপর হামলা ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ প্রার্থী বারবার ছুটে গেলেও, দলীয় সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করলেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা পঞ্চমীঘাটে স্কুল শিক্ষক লাঞ্ছনাসহ হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ সভা টেকনাফে পৃথক অভিযানে চিহ্নিত ২ আসামি গ্রেপ্তার ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ভাংচুর মামলায় গ্রেপ্তার-২২ ত্রিভুজ প্রেমের বলি আশরাফুল, হত্যার দুদিন পর মরদেহ ২৬ খন্ড করে ফেলে যায় ধানমন্ডি ৩২’এ মারধরের শিকার নারীকে জুলাইয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে

অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৭:১৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

ডাকাতেরা যখন ভ্রাতার ভূমিকায়..!

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা :
ডাকাত কথাটি শুনলেই ভয়ে আতকে উঠতে হয়। আজও বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর সময় ডাকাতদের গল্প শোনান হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতার আগে ডাকাতদের অনেকের ভূমিকা ছিল মুক্তি যোদ্ধাদের মতো।
অতীতে ডাকাতরা অনেকেই দেশের কাজে অথবা সমাজের কাজে ডাকাতি করতেন। অন্যান্য ডাকাতদের থেকে তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পূর্ন আলাদা। তারা কেউ ডাকাতি করতেন ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য, আবার অনেকে জমিদারি অত্যাচারের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করে তাদের আর্থিক সাহায্য দেবার জন্য। এমন বহু ঘটনা রয়েছে যেখানে ডাকাতরা ডাকাতির পর গভীর জঙ্গলে গিয়ে তাদের আরাধ্য মা কালীর কাছে অত্যাচারী ব্যক্তিকে বলিও চড়াতেন।
এমনই একটি বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা বলছি। জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় তিনশো বছরের পুরনো এই মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, শক্তির উপসানার পর ডাকাতি করতে বেরোতেন দেবী চৌধুরানি। কথিত আছে, একসময় করোলা নদীর ঘাট থেকে মন্দিরের গর্ভগৃহ পর্যন্ত মাটির নীচে সুড়ঙ্গ ছিল।
জলপাইগুড়ি শহরের শেষ প্রান্তে মাসকলাই বাড়ি ছাড়িয়ে জাতীয় সড়কের পাশে গোশালা মোড়ে মাড়োয়ারি শ্মশানের গায়ে অবস্থিত শ্মশানকালী মন্দির। স্থানীয়দের দ্বারাই মূলত পরিচালিত হয়ে আসছে এই মন্দিরের কালী পুজো। এবারও হচ্ছে সেই আয়োজন। জানালেন মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাম আমলে কিছু সাহায্যে পেলেও এই আমলেও কোনো সাহায্যই পাইনি। অথচ হঠাৎ এক সাধু এসে বসে থাকায় ভামরি দেবী মন্দির বিখ্যাত হয়ে গেল!’ ২৭৫ বছরের এই মায়ের মন্দিরের সংস্কারও হল না। আক্ষেপ মন্দির কমিটিরও।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এই কালী মন্দির হলো ডাকাত কালী মন্দির তথা দেবী চৌধুরানী শ্মশান কালী মন্দির।
শতাব্দীপ্রাচীন জলপাইগুড়ির দেবী চৌধুরানী শ্মশানকালী মন্দিরের ঐতিহাসিক পেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। এবার প্রায় ৩০০ vবছরে পদার্পণ করতে চলেছে এই মন্দিরের পূজা। এই পুজো হয় শ্যামা পূজার দিন। সেজন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মন্দির পরিষ্কার করার কাজ চলছে। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তগণ আসেন এখানে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে ভিড় জমান মন্দিরে।কালী পূজার পাশাপাশি এখানে শিবের আরাধনাও হয়। পূজার দিন মায়ের জন্য ভোগ নিবেদন হয়। দেবীকে তিস্তার মহাশোল মাছ ও বোয়াল মাছ দেওয়া হয়। সুরা দিয়ে মাকে স্নান করানো হয়। মায়ের এক হাতে সুরার পাত্র‌, অন্য হাতে নরমুন্ডু। রাতভর চলে পুজো।
বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবী চৌধুরানী’তে এই অঞ্চলের কাহিনি বর্ণিত। এখনও এ অঞ্চলে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের নামে নানা মিথ প্রচলিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে এঁদের জনপ্রিয়তাও দেখার মতো। যদিও অনেকেই বলেন, প্রকৃত ঘটনা যা, বঙ্কিম তাঁর উপন্যাসে সেভাবে সেটা অনুসরণ করেননি। তবুও মূলত বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের সূত্রেই এই মন্দিরটি পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত হয়। আজও মানুষের আগ্রহ রয়েছে।
তারই মাঝে, জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় তিনশো বছরের পুরনো এই মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, শক্তির উপসানার পর ডাকাতি করতে বেরোতেন দেবী চৌধুরানি। কথিত আছে, একসময় করোলা নদীর ঘাট থেকে মন্দিরের গর্ভগৃহ পর্যন্ত মাটির নীচে সুড়ঙ্গ ছিল।
দেবী চৌধুরানীর সময় থেকেই এই বিগ্রহের আরাধনা হয়ে আসছে। এখানে, দেবীর দুটি হাত। প্রত্যেক অমাবস্যাতেই এখানে শ্মশানকালীর পুজো হয়। কালীপুজোয় এখানে আগে বলি প্রথার প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমানে আইনের নিষেধাজ্ঞায় সেটি বন্ধ রয়েছে।
এখানে ভোগে থাকে, সাদা ভাত, পাঁচ রকম ভাজা, শাক ভাজা, শোল মাছ, পায়েস চাটনি ও মিষ্টি!!
করোনাকালে, এবারও পাঁচ জনের বেশি ভক্তকে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। বিলি করা হতনা ভোগও!
দেবী চৌধুরানী বজরা করে এখানে এসে সুড়ঙ্গপথে কালী মন্দিরে!
 প্রায় তিনশো বছরের পুরনো, জলপাইগুড়ির দেবী চৌধুরানির এই শ্মশানকালীর মন্দির হলেও অনেকে মনে করেন তার অনেক বছর আগে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। পুরনো রীতি মেনেই কালীপুজো হয় এখানে।
দেবী চৌধুরানী বজরা করে এখানে এসে সুড়ঙ্গপথে সোজা মন্দিরে প্রবেশ করতেন। মন্দিরের গর্ভগৃহেই রাখা হত লুঠ করে আনা সামগ্রী। জলপাইগুড়ির এই মন্দির ঘিরে নানা ইতিহাস আর জনশ্রুতি রয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের গোয়েন্দা ও পুলিশ তক্কে তক্কে থাকতো রানী দেবী চৌধুরানী গ্রেপ্তার করার জন্য। পুরো এলাকা জুড়ে তার জন্য তল্লাশি চালনো হতো। বৃটিশের চোখে ধুলো দিতেই দেবী চৌধুরানী করলা নদীর পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের ধার দিয়ে বজরা নিয়ে মন্দিরের কাছাকাছি এসে সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে মন্দিরে ঢুকতেন। তার এবং ভবানী পাঠকের ডাকাতির টাকা ও সোনা মন্দিরে জমা রাখা হতো এবং গোপনে বিপ্লবীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস আনন্দমঠে ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানীর যে উল্লেখ রয়েছে, স্থানীয় মানুষরা মনে করেন, এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ভবানী পাঠক! দেবী চৌধুরানির শ্মশানকালীর মন্দির! চা বাগান ঘেরা ছোট্ট গ্রাম! গ্রামের একপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে করোলা নদী।
এছাড়াও জলপাইগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে যোগমায়া কালী মন্দির এবং রায়কত পড়ার কালী পুজো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ হাজির হয়ে থাকেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম

আপডেট সময়- ০৭:১৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ডাকাতেরা যখন ভ্রাতার ভূমিকায়..!

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা :
ডাকাত কথাটি শুনলেই ভয়ে আতকে উঠতে হয়। আজও বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর সময় ডাকাতদের গল্প শোনান হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতার আগে ডাকাতদের অনেকের ভূমিকা ছিল মুক্তি যোদ্ধাদের মতো।
অতীতে ডাকাতরা অনেকেই দেশের কাজে অথবা সমাজের কাজে ডাকাতি করতেন। অন্যান্য ডাকাতদের থেকে তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পূর্ন আলাদা। তারা কেউ ডাকাতি করতেন ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য, আবার অনেকে জমিদারি অত্যাচারের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করে তাদের আর্থিক সাহায্য দেবার জন্য। এমন বহু ঘটনা রয়েছে যেখানে ডাকাতরা ডাকাতির পর গভীর জঙ্গলে গিয়ে তাদের আরাধ্য মা কালীর কাছে অত্যাচারী ব্যক্তিকে বলিও চড়াতেন।
এমনই একটি বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা বলছি। জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় তিনশো বছরের পুরনো এই মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, শক্তির উপসানার পর ডাকাতি করতে বেরোতেন দেবী চৌধুরানি। কথিত আছে, একসময় করোলা নদীর ঘাট থেকে মন্দিরের গর্ভগৃহ পর্যন্ত মাটির নীচে সুড়ঙ্গ ছিল।
জলপাইগুড়ি শহরের শেষ প্রান্তে মাসকলাই বাড়ি ছাড়িয়ে জাতীয় সড়কের পাশে গোশালা মোড়ে মাড়োয়ারি শ্মশানের গায়ে অবস্থিত শ্মশানকালী মন্দির। স্থানীয়দের দ্বারাই মূলত পরিচালিত হয়ে আসছে এই মন্দিরের কালী পুজো। এবারও হচ্ছে সেই আয়োজন। জানালেন মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাম আমলে কিছু সাহায্যে পেলেও এই আমলেও কোনো সাহায্যই পাইনি। অথচ হঠাৎ এক সাধু এসে বসে থাকায় ভামরি দেবী মন্দির বিখ্যাত হয়ে গেল!’ ২৭৫ বছরের এই মায়ের মন্দিরের সংস্কারও হল না। আক্ষেপ মন্দির কমিটিরও।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এই কালী মন্দির হলো ডাকাত কালী মন্দির তথা দেবী চৌধুরানী শ্মশান কালী মন্দির।
শতাব্দীপ্রাচীন জলপাইগুড়ির দেবী চৌধুরানী শ্মশানকালী মন্দিরের ঐতিহাসিক পেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। এবার প্রায় ৩০০ vবছরে পদার্পণ করতে চলেছে এই মন্দিরের পূজা। এই পুজো হয় শ্যামা পূজার দিন। সেজন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মন্দির পরিষ্কার করার কাজ চলছে। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তগণ আসেন এখানে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে ভিড় জমান মন্দিরে।কালী পূজার পাশাপাশি এখানে শিবের আরাধনাও হয়। পূজার দিন মায়ের জন্য ভোগ নিবেদন হয়। দেবীকে তিস্তার মহাশোল মাছ ও বোয়াল মাছ দেওয়া হয়। সুরা দিয়ে মাকে স্নান করানো হয়। মায়ের এক হাতে সুরার পাত্র‌, অন্য হাতে নরমুন্ডু। রাতভর চলে পুজো।
বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবী চৌধুরানী’তে এই অঞ্চলের কাহিনি বর্ণিত। এখনও এ অঞ্চলে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের নামে নানা মিথ প্রচলিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে এঁদের জনপ্রিয়তাও দেখার মতো। যদিও অনেকেই বলেন, প্রকৃত ঘটনা যা, বঙ্কিম তাঁর উপন্যাসে সেভাবে সেটা অনুসরণ করেননি। তবুও মূলত বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের সূত্রেই এই মন্দিরটি পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত হয়। আজও মানুষের আগ্রহ রয়েছে।
তারই মাঝে, জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় তিনশো বছরের পুরনো এই মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, শক্তির উপসানার পর ডাকাতি করতে বেরোতেন দেবী চৌধুরানি। কথিত আছে, একসময় করোলা নদীর ঘাট থেকে মন্দিরের গর্ভগৃহ পর্যন্ত মাটির নীচে সুড়ঙ্গ ছিল।
দেবী চৌধুরানীর সময় থেকেই এই বিগ্রহের আরাধনা হয়ে আসছে। এখানে, দেবীর দুটি হাত। প্রত্যেক অমাবস্যাতেই এখানে শ্মশানকালীর পুজো হয়। কালীপুজোয় এখানে আগে বলি প্রথার প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমানে আইনের নিষেধাজ্ঞায় সেটি বন্ধ রয়েছে।
এখানে ভোগে থাকে, সাদা ভাত, পাঁচ রকম ভাজা, শাক ভাজা, শোল মাছ, পায়েস চাটনি ও মিষ্টি!!
করোনাকালে, এবারও পাঁচ জনের বেশি ভক্তকে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। বিলি করা হতনা ভোগও!
দেবী চৌধুরানী বজরা করে এখানে এসে সুড়ঙ্গপথে কালী মন্দিরে!
 প্রায় তিনশো বছরের পুরনো, জলপাইগুড়ির দেবী চৌধুরানির এই শ্মশানকালীর মন্দির হলেও অনেকে মনে করেন তার অনেক বছর আগে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। পুরনো রীতি মেনেই কালীপুজো হয় এখানে।
দেবী চৌধুরানী বজরা করে এখানে এসে সুড়ঙ্গপথে সোজা মন্দিরে প্রবেশ করতেন। মন্দিরের গর্ভগৃহেই রাখা হত লুঠ করে আনা সামগ্রী। জলপাইগুড়ির এই মন্দির ঘিরে নানা ইতিহাস আর জনশ্রুতি রয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের গোয়েন্দা ও পুলিশ তক্কে তক্কে থাকতো রানী দেবী চৌধুরানী গ্রেপ্তার করার জন্য। পুরো এলাকা জুড়ে তার জন্য তল্লাশি চালনো হতো। বৃটিশের চোখে ধুলো দিতেই দেবী চৌধুরানী করলা নদীর পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের ধার দিয়ে বজরা নিয়ে মন্দিরের কাছাকাছি এসে সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে মন্দিরে ঢুকতেন। তার এবং ভবানী পাঠকের ডাকাতির টাকা ও সোনা মন্দিরে জমা রাখা হতো এবং গোপনে বিপ্লবীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস আনন্দমঠে ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানীর যে উল্লেখ রয়েছে, স্থানীয় মানুষরা মনে করেন, এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ভবানী পাঠক! দেবী চৌধুরানির শ্মশানকালীর মন্দির! চা বাগান ঘেরা ছোট্ট গ্রাম! গ্রামের একপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে করোলা নদী।
এছাড়াও জলপাইগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে যোগমায়া কালী মন্দির এবং রায়কত পড়ার কালী পুজো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ হাজির হয়ে থাকেন।