ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জে পাইকারিতে ডিমের দাম না বাড়লেও, খুচরা পর্যায়ে প্রায় দ্বিগুণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ ১৫ বার পড়া হয়েছে
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।।
মুন্সীগঞ্জে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম খুব বেশি বাড়েনি।অথচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে খোলাবাজারে।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে,জেলায় প্রতিদিন গড়ে অর্ধ লক্ষাধিক ডিমের চাহিদা রয়েছে।এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে দেড় লক্ষাধিক।ক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাজারে তদারকি না থাকায় পাইকারির চেয়ে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। তবে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান,প্রতি হালি লাল ডিম তারা বিক্রি করছেন ৪৫-৪৬ টাকা।তবে খুচরা পর্যায়ে এসব ডিমই বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা হালি।পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে প্রতি হালি ডিমের দামে পার্থক্য ১০-১৫ টাকার।খুচরা বাজারে দেশী মুরগির ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকায়।তবে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকায়। পাইকারিতে হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা প্রতি হালি।তবে তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়।সদর উপজেলার রমজানবেগের আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া পোলিট্র ফার্মসহ বেশ কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে,ফার্মের লাল ডিম পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে খামার থেকে বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৩৭ টাকা প্রতি হালি।সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা।খামারিরা বলছেন,দেশী মুরগির ডিমের সংকট রয়েছে।এছাড়া খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি,পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বাড়তি দামে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ফার্মের লাল ও সাদা ডিম। খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।হাট লক্ষ্মীগঞ্জের পাইকারি ডিম বিক্রেতা আবদুল মতিন বণিক বার্তাকে বলেন,পাইকারি বাজারে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।তবে খুচরা বাজারে সংকটের ভুল তথ্য দিয়ে বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের ডিম।ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।পাইকারি বাজারে খুব বেশি না বাড়লেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।
তিনি বলেন,গতকাল ভোরে রাজধানীর আড়ত ও বিভিন্ন হিমাগার থেকে আনা ১০০ পিস লাল ডিমের দাম পড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫০ টাকা।যা হালি হিসেবে ভাগ করলে প্রায় ৪৫ টাকা পড়ে।প্রতি হালিতে ১ টাকা লাভে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে এসব ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা।তবে একই ডিম পাইকারি বাজার থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে খুচরা বাজারে ৫৫-৬০ টাকা হালি বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, জেলা পর্যায়ে হাটবাজারগুলো নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অভিযান পরিচালনা করেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি।ভোক্তাদের অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করে নেয়া হচ্ছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হবে।ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অবশ্যই ক্রয় স্লিপ রাখতে হবে।যদি কোনো ব্যবসায়ীর মুনাফালোভী মনোভাবের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়,তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর রিপন বিপিএএ বলেন,জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সতর্কও করা হচ্ছে।কেউ আইন অমান্য করলে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুন্সীগঞ্জে পাইকারিতে ডিমের দাম না বাড়লেও, খুচরা পর্যায়ে প্রায় দ্বিগুণ

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।।
মুন্সীগঞ্জে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম খুব বেশি বাড়েনি।অথচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে খোলাবাজারে।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে,জেলায় প্রতিদিন গড়ে অর্ধ লক্ষাধিক ডিমের চাহিদা রয়েছে।এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে দেড় লক্ষাধিক।ক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাজারে তদারকি না থাকায় পাইকারির চেয়ে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। তবে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান,প্রতি হালি লাল ডিম তারা বিক্রি করছেন ৪৫-৪৬ টাকা।তবে খুচরা পর্যায়ে এসব ডিমই বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা হালি।পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে প্রতি হালি ডিমের দামে পার্থক্য ১০-১৫ টাকার।খুচরা বাজারে দেশী মুরগির ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকায়।তবে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকায়। পাইকারিতে হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা প্রতি হালি।তবে তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়।সদর উপজেলার রমজানবেগের আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া পোলিট্র ফার্মসহ বেশ কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে,ফার্মের লাল ডিম পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে খামার থেকে বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৩৭ টাকা প্রতি হালি।সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা।খামারিরা বলছেন,দেশী মুরগির ডিমের সংকট রয়েছে।এছাড়া খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি,পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বাড়তি দামে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ফার্মের লাল ও সাদা ডিম। খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।হাট লক্ষ্মীগঞ্জের পাইকারি ডিম বিক্রেতা আবদুল মতিন বণিক বার্তাকে বলেন,পাইকারি বাজারে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।তবে খুচরা বাজারে সংকটের ভুল তথ্য দিয়ে বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের ডিম।ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।পাইকারি বাজারে খুব বেশি না বাড়লেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।
তিনি বলেন,গতকাল ভোরে রাজধানীর আড়ত ও বিভিন্ন হিমাগার থেকে আনা ১০০ পিস লাল ডিমের দাম পড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫০ টাকা।যা হালি হিসেবে ভাগ করলে প্রায় ৪৫ টাকা পড়ে।প্রতি হালিতে ১ টাকা লাভে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে এসব ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা।তবে একই ডিম পাইকারি বাজার থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে খুচরা বাজারে ৫৫-৬০ টাকা হালি বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, জেলা পর্যায়ে হাটবাজারগুলো নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অভিযান পরিচালনা করেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি।ভোক্তাদের অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করে নেয়া হচ্ছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হবে।ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অবশ্যই ক্রয় স্লিপ রাখতে হবে।যদি কোনো ব্যবসায়ীর মুনাফালোভী মনোভাবের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়,তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর রিপন বিপিএএ বলেন,জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সতর্কও করা হচ্ছে।কেউ আইন অমান্য করলে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে।