অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী রোববার (১ নভেম্বর) সকালে দেশের ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আট লাখ পেনশনভোগী অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বাড়তি বেতনও পেয়েছেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবরের মধ্যে যাদের পে ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তারাই প্রথম ধাপে এই অর্থ পেয়েছেন। তবে যাদের পে ফিক্সেশন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তারা আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই বকেয়াসহ বেতন পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এদিকে, নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মচারীর মধ্যে জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম এবং বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে কিছু অসংগতি ও জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া বা পদোন্নতির পরও আয় কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত এসব জটিলতা দূর করতে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই এই কাঠামোতে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ গ্রেডের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে কয়েকটি ধাপে। প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি মূল বেতন পাচ্ছেন। পরবর্তীতে ২০২৭ ও ২০২৮ সালের বিভিন্ন ধাপে এই বেতনকাঠামো ও অন্যান্য ভাতার শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।