ফরহাদ রহমান,টেকনাফ প্রতিনিধি।।
নাফ নদীর সকালের কুয়াশা তখনও ঘন। ঠিক সেই মুহূর্তে বদলে গেল দুই জেলের জীবনের দিকচিত্র। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ঝিমংখালী অংশ থেকে দুই বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ভোররাতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন কয়েকজন জেলে। জাল ফেলতে না ফেলতেই নদীর ওপার থেকে দ্রুতগামী একটি নৌকা এগিয়ে আসে। স্মৃতির মতোই তীব্র সেই মুহূর্তে সশস্ত্র ব্যক্তিরা নৌকা ঘিরে দু’জন জেলেকে টেনে তুলে নেয়। বাকিরা আতঙ্কে দ্রুত সরে পালিয়ে বাঁচেন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নাফ নদীর ঝিমংখালী অংশে সীমান্ত পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। “আজ ভোরে আরাকান আর্মির সদস্যরা এসে দু’জন জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে”—বললেন ইউপি সদস্য।
আটক জেলেদের পরিচয়—হোয়াইক্যংয়ের উত্তর পাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম (৫০) এবং উনচিপ্রাংয়ের রইক্ষ্যং এলাকার অলি হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন (১৮)। দু’জনই দীর্ঘদিন ধরে নাফ নদীতে মাছ ধরতেন।
ঘটনার পর জেলেপাড়ায় নেমে এসেছে আতঙ্কের ছায়া। পরিবারের লোকজন শোকে বিলাপ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, “নাফ নদী এখন মাছের চেয়ে বেশি ভয় নিয়ে আসে।”
স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও বিজিবি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং জেলেদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ চলছে বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনার পর নাফ নদীর জোয়ারে নতুন করে ভেসে উঠেছে প্রশ্ন—জীবিকার নদীটি আর কতদিন ধরে আনবে এমন শঙ্কার গল্প?