ব্যক্তিগত আড্ডা হোক কিংবা রাজনীতির বর্ণাঢ্য জীবন সব জায়গাতেই তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে শীতলক্ষ্যার জল-হাওয়া আর এই লক্ষ্যাপাড়ের মানুষের জীবন সংগ্রাম। আজ ৬ জানুয়ারি সেই ‘মেইড ইন নারায়ণগঞ্জ’ খ্যাত মাসুদুজ্জামানের ৬৪তম জন্মদিন।
মাসুদুজ্জামান ১৯৬২ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জের ডান্ডি খ্যাত শীতলক্ষ্যা নদীর পার ঘেসে খানপুরে জন্ম নেওয়া এই শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠকের শৈশব–কৈশোর কেটেছে।। শিক্ষা দীক্ষা নদী, মাটি আর কোলাহল মুক্ত শহরের আলো বাতাসে তার শৈশব থেকে কৈশোরে বেড়ে ওঠা। নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই বলেন, এই শীতলক্ষ্যার পাড়েই তার জীবন গড়ে উঠেছে—এই নদী, এই মাটি আর এই হাওয়ার ভেতর দিয়েই তিনি বড় হয়েছেন।
ডাঙ্গুলি, ফুটবল আর ক্রিকেটের মাঠে দুরন্তপনায় শৈশব কেটেছে। ছোটবেলার স্মৃতি টানতে গিয়ে তিনি বলেন, এই শহরকে কেন্দ্র করেই তার জীবন আবর্তিত হয়েছে। শৈশবের খেলাধুলা থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা সবকিছুই এই নারায়ণগঞ্জকে ঘিরেই।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি ব্যবসায়ী জীবনে চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পেয়েছেন সাফল্য, গণমাধ্যমে তার রয়েছে অসাধ্য অবদান, তিনি গণমানুষের পাঠকপ্রিয়তা জাতীয় দৈনিক সমকালীন কাগজ পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি, সিটিজেন ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিটন—সিসিডিএমের সাবেক সিনিয়র সভাপতি, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাসুদুজ্জামান।
ব্যবসা থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনের বাইরেও সমাজের অসহায় ও মানবসেবায় ক্ষেত্রে রয়েছে তার অসামান্য ও নীরব কিন্তু ধারাবাহিক ভূমিকা। থ্যালাসেমিয়ার মতো ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় তিনি নিয়মিতভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন নিরবে নিভৃতে। প্রচারণা বিমুখ এই মানবিক মানুষটি।
এক সময় বর্নাঢ্য যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা মাসুদুজ্জামান পরবর্তীতে ব্যবসা, ক্রীড়া ও সমাজসেবায় মনোনিবেশ করলেও রাজনীতির সঙ্গে ছিলো তার নিবিড় সম্পর্ক। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছেন।
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ৩ নভেম্বর দলের প্রথম পর্যায়ের প্রার্থী তালিকায় তার নাম ঘোষণা করা হয়। তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্রন্দল, নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও কর্মীসভায় তিনি তার অনুসারীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জের মা মাটি মানুষের ভালোবাসায় জন্ম নিয়ে বেড়ে ওঠা এই সংগঠক জীবনের ৬৪তম বছরে এসেও নিজের জীবনচলার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জকেই। এই শহরের মাটি ও মানুষকে।
























































































































































