
অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।
গাজীপুরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৩০ জনকে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরমধ্যে শিল্প পুলিশ দুটি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) একটি মামলা করেছে।
পুলিশ সুপার(এসপি) জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ এবং গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি ও সালনা এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা মহানগরীর কোনাবাড়ীতে একটি পুলিশ বক্সে এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এর আগে, রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিনের শ্রমিক আন্দোলনের ফলে গাজীপুর-ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাজীপুর এবং ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।