অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।
নারায়ণগঞ্জের প্রানকেন্দ্র চাষাঢ়াস্থ সমবায় মার্কেটের তৃতীয় ও ৪র্থ তলায় অবস্থিত ‘হেভেন কম্পিউটার’-এর কর্ণধার মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারণ ক্রেতাদের হয়রানি, পণ্য বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ও নির্ধারিত সার্ভিস নিয়ে টালবাহানা এবং মেরামতের খরচ নিয়ে অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ উঠে তিনি এরকম অসংগতি করে সাধারণ ক্রেতার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বহু অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অঢেল সম্পত্তি গড়েছেন।
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবসায় একই মার্কেটে একাধিক দোকানের মালিক বনে গেছেন, যেখানে একই মার্কেটে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এরকম এক ভুক্তভোগী ক্রেতা মো. শামীম হোসেনের অভিযোগ, দোকানটি থেকে কেনা একটি প্রিন্টার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে একাধিকবার ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর মো. শামীম হোসেন নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত হেভেন কম্পিউটার থেকে ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে Epson L3210 মডেলের একটি প্রিন্টার কেনেন। কেনার সময় প্রিন্টারটির সঙ্গে এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়।
কিন্তু কেনার পর থেকেই প্রিন্টারটিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। শামীম হোসেনের দাবি, এক বছরের ওয়ারেন্টি চলাকালে প্রিন্টারটি তিন থেকে চারবার মেরামতের জন্য দোকানে নিতে হয়েছে। প্রতিবারই তিনি ভোগান্তির কথা জানিয়ে প্রিন্টারটি পরিবর্তন করে অন্য একটি দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা দিতেও তিনি রাজি ছিলেন। কিন্তু দোকান কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই আশ্বাস দেয়, এবার ব্যবহার করে দেখুন, পরবর্তী সময়ে সমস্যা হলে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।
ওই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্রিন্টারটি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও প্রিন্টারটিতে সমস্যা দেখা দিলে শামীম হোসেন মেরামতের জন্য দোকানে যোগাযোগ করেন। তখন প্রথমে তাকে ৮০০ টাকা খরচের কথা জানানো হয়। তিনি সম্মতি দিয়ে প্রিন্টারটি মেরামতের জন্য রেখে যান এবং পরদিন নেওয়ার কথা বলেন।
কিন্তু পরদিন ফোন করে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, প্রিন্টারটি মেরামত করতে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। এমন অপ্রত্যাশিত খরচের কথা শুনে বিস্মিত হন শামীম হোসেন। বিষয়টি সরাসরি জানতে তিনি তার আন্টি লাবনী আক্তার এবং বন্ধু সাংবাদিক ফাহিম মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে যান।
তাদের অভিযোগ, দোকানে গিয়ে মেরামতের খরচ ও আগের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে দোকান মালিক মাকসুদুর রহমানের কাছ থেকে তারা অসহযোগিতামূলক আচরণ ও দুর্ব্যবহারের শিকার হন। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শামীম হোসেনের দাবি, প্রিন্টারটি বিক্রি করলে মাত্র ১২০০ টাকা পাওয়া যাবে বলে দোকান থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে মেরামতের খরচ নিয়ে প্রথমে ৮০০ টাকা, পরে পাঁচ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ সাত হাজার টাকার কথা বলা হয়। এতে তিনি চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শুধু শামীম হোসেনই নন, ওই দোকানে অবস্থান করার সময় আরও দুই থেকে তিনজন ক্রেতাকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসতে দেখা যায় বলে অভিযোগকারীরা জানান। তাদের দাবি, পণ্য কেনার পর বিক্রয়-পরবর্তী সেবা নিয়ে ক্রেতাদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক ফাহিম মাসুদ, যিনি দেশের আলো পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত, তিনি প্রতিবাদ জানালে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে লাবনী আক্তারের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
একপর্যায়ে কোনো সমাধান না পেয়ে শামীম হোসেন তার প্রিন্টারটি দোকানেই রেখে আসেন।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী ক্রেতা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো ক্রেতা যেন এমন ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের বক্তব্য, "ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ, আমাদের আর কিছু করার নেই,যেখান থেকে পারেন সেখান থেকে ঠিক করে নিন " । অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ক্রেতার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেক ভুক্তভোগী জানান এই লেবাসধারীর কাছ থেকে আইপি ক্যামেরা (দাহুয়া ব্রান্ডের) সার্ভিসসহ ক্রয় করলে তিনি লোক পাঠানো কথা বলে বিক্রি শেষে চোখে কাঠের চশমা পরে পল্টি নিয়েছেন, পাঠাচ্ছি দেই দিচ্ছি বলে বহু সময় ক্ষেপন করেছেন। এমনকি প্রায় সময় সমস্যা দেখা দিলে, তাকে জানালে সে নানানভাবে টালবাহানা জুুড়ে দেন। এভাবেই তিনি ভুক্তভোগী কাস্টমারদের সাথে প্রতারণা করে থাকেন বলে ওই ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
তবে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্য পাওয়া গেছে, আসপাশের দোকানদার ব্যবসায়ীরা এধরণের তথ্য কথা স্বীকার করেন। তার সাথে প্রায়শই নানান ধরনের কাস্টমারের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।
যেখানে এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এই মালিক কিভাবে একের পর এক দোকান কিনেই চলছে, তার এত আয়ের উৎস কোথায় কেউ জানেনা।
সূত্র : জাগো নারায়ণগঞ্জ
☞ Chief Adviser' Prabir Kumar Saha, ✪ Adviser-' Mohammad Kamrul Islam, ☞Editor & publisher' Mohammad Islam.◑ Head office:-Motijheel C/A, Dhaka-1212, Corporate office:-B.B Road ,Chasara,Narayanganj-1400,✆-02-47650077,02-2244272 Cell:+88-01885-000126.web: www.samakalinkagoj.com, News-samakalinkagoj@gmail.com,✆+8801754-605090(Editor) সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১৮০,ফকিরাপুল পানির টাংকির গলি,মতিঝিল বা/এ, ঢাকা অবস্থিত 'জননী প্রিন্টার্স' ছাপাখানা হতে মুদ্রিত,®রেজি ডি/এ নং-৬৭৭৭, All Rights Reserved ©Daily samakalin kagoj paper authority সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©দৈনিক সমকালীন কাগজ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
Copyright © 2026 Daily Samakalin Kagoj. All rights reserved.