মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে কড়া পুলিশি প্রহরায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৌঁছান সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তাকে দ্রুত আদালত কক্ষে নেওয়া হয়।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও তার সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিকালে আইভীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন আদালতে জানান, মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে পুলিশ বিস্ফোরকের কোনো আলামত কিংবা ঘটনার সঙ্গে আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি। এছাড়া নোটিশ পাওয়ার পরও মামলার বাদী ও নিহত তুহিনের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিম আদালতে হাজির হননি।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও এই মামলায় তার মক্কেল জামিনে ছিলেন। ফলে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তার ক্লায়েন্টের পুনরায় জামিন মঞ্জুরের জন্য তারা আবেদন জানান।
অন্যদিকে, শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাকির হোসেন। তিনি আদালতে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জামিনের বিরুদ্ধে ‘নারাজি পিটিশন’ জমা দেওয়া হবে।
তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পিপি জাকির হোসেনের কাছে জানতে চান—ঠিক কোন আইনের ভিত্তিতে তিনি নারাজি পিটিশন দেবেন? উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ আইভীর পুনরায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এরপর আইনি কার্যক্রম শেষে বিজ্ঞ আদালত থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘জয় বাংলা, দাবিয়ে রাখা যাবে না।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে থাকা অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিন ধার্য ছিল।