অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।
জুলাই আন্দোলনে আহত এক ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধার চেক দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি, মারধর, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
এছাড়াও, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশিদ, মো. কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াসিন মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আবেদনের অভিযোগ অনুযায়ী, গিয়াস উদ্দিন জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক গ্রহণ করতে যান। তবে তা না পেয়ে বাংলামোটর এনসিপি অফিসে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, জুলাই আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, তাসনিম জারা, স্নিগ্ধকে বিষয়টি অবগত করেন। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দিয়ে দিবে। তবে আসামিরা কালক্ষেপণ করে বলেন, ‘আজ না, কাল আসতে বলেন’।পরে গত বছরের ৩ মে চেক নেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনে যান বাদী। আসামিরা তাকে জানান, চেকের ৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লখ টাকা দিলে তখনই ব্যাংক থেকে ক্যাশ করে ওই চেক নিতে পারবেন। তবে গিয়াস উদ্দিন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন আসামিরা কৌশলে গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরলে শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি, লাথি মারে। পাশের ওয়ালে ফেলে দিলে রডের সাথে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরবর্তীতে আসামিরা তাকে সুস্থ করেন। তখন গিয়াস উদ্দিন দেখতে পান, তার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। পরে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রাখে। পরে তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করা করায়।
গিয়াস উদ্দিন থানায় যান মামলা করতে। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরে তারা তাকে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বাদী গিয়াস উদ্দিন জানান, ঘটনার পর তিনি চিকিৎসা নেন। কয়েক দিন পর রমনা থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তিনি আদালতে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রমনা থানা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দণ্ডবিধির ৩২০, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮৫, ৫০৬ (২) ও ১০৯ ধারায় আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে।
