ফরহাদ রহমান,
টেকনাফ প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের টেকনাফে অপরাধ দমনে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১১ জনকে আইনের আওতায় এনেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই অভিযানে অনলাইন জুয়া, সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন অপরাধে ৭ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এ বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার।
বিশেষ এ অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, র্যাব, ব্যাটালিয়ন আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোট ১৬৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে বিভিন্ন মামলার চারটি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক দুর্ধর্ষ আসামিকে আটক করা হয়।
পৃথক অভিযানে আরও তিনজন নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে দুটি এবং অপর দুইজনের বিরুদ্ধে একটি করে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
অভিযান চলাকালে অনলাইন জুয়া, সরকারি ও পুলিশি কাজে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৭ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
১৬ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার, মোট সাতটি গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং সাতজনকে মোবাইল কোর্টে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১ জনকে আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টেকনাফে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।