অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।

 

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি (২৫) নামে এক কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

বৃহস্পতিবার(১৩ আগষ্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে র‍্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় আবদুল খালেক সাংবাদিকদের সামনে দম্ভোক্তি করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালে তার বাবাকে মারধর করে হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বিকে হত্যা করেছেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে খালেক বলেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কী কথা আছিল, এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না। সন্ত্রাসী মারছি। আমার বাপেরে কোপাইছে, আমি কোপাইছি।’

নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে লুটপাট করা হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ তাদের রক্ষা করতে পারেনি। যারা তার বাড়িঘর পুড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন খালেক। তার দাবি, রাব্বি বিভিন্ন দোকান থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলতেন এবং চাঁদা না দিলে মারধর করতেন। নিজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে খালেক বলেন, ‘মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা কোপাইছি ওরে।’

র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একদল ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাব্বির ওপর হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে ঢুকে রাব্বিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে গুরুতর আহত রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই র‍্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে রঘুরামপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হিসেবে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১৪-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বড় দা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল থাকতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি কারণের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে নিহত রাব্বীর পক্ষের লোকজন খালেকের বাবাকে মারধর করে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা রয়েছে। ওই ঘটনার জেরে খালেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজকে কেন্দ্র করে রাব্বীর পক্ষের লোকজন চাঁদা দাবি করত বলেও অভিযোগ করেছেন খালেক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই সালিশের সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরোধের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার খালেকের দেওয়া তথ্য যাচাই করে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তার খালেককে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।