গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জেল সুপারকে বদলি এবং জেলারের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহারকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে জেলার শিরিন আখতারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এরআগে, একই ঘটনায় তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষীসহ মোট ৭জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির কারণে জেল সুপারকে বদলি করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রিম্পা (২১) নামে এক নারী বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসায় কারা অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠায়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করানোর কথা। কিন্তু সেদিন বন্দি গণনার সময় রিম্পাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে কারাগাজুড়ে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, রিম্পা কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।

তদন্তে জানা যায়, ওই সময় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। দায়িত্বে থাকা মেট্রন ও কারারক্ষীদের নজরদারির ঘাটতির সুযোগেই তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজন হলেন, মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

ঘটনার পর পলাতক বন্দির বিরুদ্ধে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে র‌্যাবের অভিযানে রিম্পাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।