প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ২:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ৬:৩৬ পি.এম
দীর্ঘ এক বছর পর কারামুক্ত হয়ে নিজ কুটিরে ফিরলেন আইভী
বিশেষ প্রতিবেদক।।
দীর্ঘ ১২ মাস আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে কারামুক্ত হয়ে নিজ কুটিরে ফিরলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী অ্যাড. আওলাদ হোসেন জানান, বিকেলে জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১০টায় আইভী মুক্তি পান। তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির পথ দ্রুত সুগম হয়। গত ১০ মে ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে।
পরবর্তীতে, আরো দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৭ মে আপিল বিভাগ সেসব মামলাতেও জামিন পূর্ন বহাল রাখার আদেশ দেন আদালত।আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন জানান, আপিল বিভাগের আদেশগুলো নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর একই দিনে আইভীর জামিন কার্যকরের আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও ঈদুল আজহার ছুটির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার জামিনের নথিপত্র কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছালে তার মুক্তি নিশ্চিত হয়।
অ্যাড. আওলাদ হোসেন আরও বলেন, সব মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ায় আইভী আজ মুক্তি পেয়েছেন। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে তার।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপরও তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবন চুনকা কুটিরে অবস্থান করছিলেন। ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তার বাসভবনে গেলে বিপুল সমর্থক সেখানে জড়ো হন। পরে সারারাত রুদ্ধ ধার আলোচনা শেষে ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে।