অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।

 

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হচ্ছে। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদনকারীদের অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে সামান্য ভুলের জন্যও বাতিল হতে পারে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন। সঠিকভাবে আবেদন করবেন যেভাবে-

➤ অনলাইনে আবেদনের নিয়ম
নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথমে অনলাইনে ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করার পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে।

⇨ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নিয়ম
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য স্লট আগের কার্যদিবসে প্রকাশ করা হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাইনআপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করা যাবে। সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করা আবেদনকারীরাই একই দিন বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন।

সাইনআপের সময় ভিসা আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ওটিপি ই-মেইলে এবং আরেকটি মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে। নির্ধারিত ধাপে উভয় ওটিপি যাচাই করে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইনআপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।

সাইনআপ সম্পন্ন হওয়ার পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। ওটিপি যাচাইয়ের পর ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। আপলোড করা তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে যুক্ত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করলে পরবর্তী দিনের একটি নির্ধারিত স্লট দেখা যাবে। প্রয়োজন হলে একবার স্লট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর ভিসা প্রসেসিং চার্জ অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

তবে আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং সেটি ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। পরিবর্তিত বা সম্পাদিত ফাইল গ্রহণ করা হবে না।

➤ আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে

  • কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদসহ দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকা মূল পাসপোর্ট।
  • পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার কপি এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে তার কপি।
  • পূর্বের সব পাসপোর্ট।
  • তিন মাসের মধ্যে তোলা ২×২ সাইজের রঙিন পাসপোর্ট ছবি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।
  • সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু করা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল।
  • চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স।
  • ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র।
  • আবেদনপত্রে নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

পূর্বের সব পাসপোর্ট জমা না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পর্যটন ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেই। তবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বাবদ আইভ্যাক ১ হাজার ৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করবে, যা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে এবং এরপর নির্ধারিত নিয়মে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র, নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে তৈরি আবেদনপত্র বা নির্দেশনা অনুসরণে ত্রুটি থাকলে ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে।