বিশেষ প্রতিবেদক।।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় এবার কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই কুরবানির হাটের ইজারা সম্পন্ন, প্রশংসিত ইউএনও।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদ নিজ কার্যালয়ে দরপত্র উন্মুক্ত করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে মারামারি ও বিশৃঙ্খলাসহ হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছে। কোন কোন বছর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গোলাগুলি ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা।
কিন্তু এবার তার উল্টো দেখা গেছে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ১৩টি পশুর হাটের দরপত্র নির্বগ্নে বিক্রি ও উন্মুক্ত করে ইজারাদারদের নামও ঘোষণা করতে পেরেছে উপজেলা প্রশাসন।
সকাল থেকেই দরপত্র উন্মুক্ত করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা এড়াতে পরিষদে প্রবেশের জন্য একটিমাত্র পথ খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখা হয়।
তবে, সারাদিন স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ইউএনও’র কক্ষে কয়েকবার প্রবেশ করতে এবং বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরাও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ছিলেন।এতে করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও দিনভর কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।
যদিও গত কয়েকদিন আগে ২১ এপ্রিল উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়।
আরও উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৫ মে কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র কেনার সময় বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজন আহতও হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে, এবছর হাটের দরপত্রের ফরম কেনা, জমা দেওয়া ও উন্মুক্তের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়াতে প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রশাসন বলছে, তারা এবার আগেই নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ফলে, বিশৃঙ্খলা এড়ানো গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইজারা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে আগে থেকেই একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি জমা পড়া দরপত্র যাচাই শেষে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম ঘোষণা করে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে যেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
