প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০২৬, ৫:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৮:০৯ পি.এম
প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় অনিশ্চিত গাইবান্ধার ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চরম অবহেলা ও গাফিলতিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে ছবি থেকে শুরু করে নাম, বিভাগ—সবকিছুতেই ধরা পড়েছে গুরুতর ভুল। এতে বিদ্যালয়টিতে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক।
আগামী বুধবার সারা দেশে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল এসব শিক্ষার্থীর। কিন্তু ভুলভর্তি প্রবেশপত্র পেয়ে এখন তারা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। অনেকে এখনও হাতে পাননি অ্যাডমিট কার্ড।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ২১২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৮ জন ও মানবিক বিভাগে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সম্প্রতি প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হলে ধরা পড়ে অসংখ্য ভুল।
কয়েক দিন আগে উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র হাতে তুলে দিলেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পান বিপর্যয় ডেকে আনা ভুলভর্তি কাগজ।
অভিযোগ উঠেছে, কারও অ্যাডমিট কার্ডে মায়ের নামের জায়গায় বাবার নাম লেখা, আবার কারও বাবার জায়গায় মায়ের নাম। ছেলে শিক্ষার্থীর ছবির জায়গায় বসানো হয়েছে মেয়ের ছবি। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ছাপা হয়েছে মানবিক বিভাগ। আরও আশ্চর্যের বিষয়, অনেক শিক্ষার্থী এখনও পাননি তাদের প্রবেশপত্র। সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়েছেন প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার, অন্য শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে বাইরের একটি কম্পিউটার দোকান থেকে ফরম পূরণের কাজ করান। এতেই ঘটেছে এই বড় ধরনের বিপর্যয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাকা থেকে বঞ্চিত করতেই একা বাইরের কম্পিউটার দোকানে কাজ করতে গিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। শিক্ষকদের কাছ থেকে ফরম পূরণের বরাদ্দকৃত টাকা নিয়েও তাদের দিয়ে কাজ করাননি বলে অভিযোগ।
ভুলে ভরা প্রবেশপত্রের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ভিড় জমান। বিদ্যালয়ের মাঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এত দিন পরিশ্রম করার পর পরীক্ষার আগে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে—তা কেউ কল্পনাই করতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমাদের পরীক্ষা দিতে পারব কি না, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। প্রধান শিক্ষক সমস্যা সমাধান করবেন বলছেন, কিন্তু এখনও কিছুই হয়নি। তিন দিন পর পরীক্ষা, আমরা আতঙ্কে আছি।’
এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের অ্যাডমিট কার্ডে অন্য কারও ছবি। এখন কী হবে? সে কি পরীক্ষা দিতে পারবে? শিক্ষকরা তো আমাদের নিয়ে তামাশা করেছেন।’
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি সমস্যার সমাধান করবেন। তিনি বলেন, ‘আমার কারণেই ভুল হয়েছে। আমি সমাধান করে দেব। একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বাদ পড়বে না। সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাউকে টেনশন করতে হবে না।’
তবে তার এই আশ্বাসে স্বস্তি পাচ্ছেন না অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শুরুর আগে এত অল্প সময়ে এত বড় জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হবে কি না—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরে শিক্ষা বোর্ডেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি ১৮ জন শিক্ষার্থীর সমস্যা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনের সমাধান হয়েছে। বাকিদের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।’
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই বিষয়টি গতকাল জেনেছি। ওই বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আজ সকালে নতুন অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার্থীরাও আজ তাদের অ্যাডমিট কার্ড পেয়ে যাবে।’
☞ Chief Adviser' Prabir Kumar Saha, ✪ Adviser-' Mohammad Kamrul Islam, ☞Editor & publisher' Mohammad Islam.◑ Head office:-Motijheel C/A, Dhaka-1212, Corporate office:-B.B Road ,Chasara,Narayanganj-1400,✆-02-47650077,02-2244272 Cell:+88-01885-000126.web: www.samakalinkagoj.com, News-samakalinkagoj@gmail.com,✆+8801754-605090(Editor) সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১৮০,ফকিরাপুল পানির টাংকির গলি,মতিঝিল বা/এ, ঢাকা অবস্থিত 'জননী প্রিন্টার্স' ছাপাখানা হতে মুদ্রিত,®রেজি ডি/এ নং-৬৭৭৭, All Rights Reserved ©Daily samakalin kagoj paper authority সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©দৈনিক সমকালীন কাগজ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
Copyright © 2026 Daily Samakalin Kagoj. All rights reserved.