নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইরে শুভ অপহরণ করে টর্সার করে হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মো.আল আমিন ইসলাম ওরফে লাল শুভ (২৪), কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।নিহত যুবক শুভ ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার মো. খলিল হোসেনের ছেলে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর রাত ৩টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১১, সিপিএসসি এবং র্যাব-১৩, রংপুরের একটি যৌথ দল নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার গাড়াগ্রাম জুম্মার পাড় এলাকায় গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তি মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ যে, নিহত শুভ(২১) একজন এসি মেকার ছিলেন। গত প্রায় ৭-৮ মাস ধরে এলাকার কিছু বখাটেদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫-২০ দিন আগে প্রধান আসামি সেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।
এর পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ বিকেলে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামি 'লাল শুভ' তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় আসতে বলে। নিহত শুভ সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লাল শুভসহ অন্যান্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। দূর্বল হয়ে পরলে একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার আর কোনো খোঁজ পাননি।
পরে গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে নিখোঁজের সাতদিন পর পরিবারের সদস্যরা সেটিকে শুভর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে 'লাল শুভকে' গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
