রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নৌযান দুটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার প্রাথমিক দায়বদ্ধতায় ‘এমভি আশা-যাওয়া-৫’ ও ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চ দুটির রুট পারমিট ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজিব আহসান বলেন, নৌপথে এমন অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে না পারে, সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর সন্তান আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান রাতে সাময়িক বিঘ্নিত হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা পুরোদমে শুরু হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে সদরঘাটে যাত্রী ওঠানোর সময় দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মো. সোহেল নামের এক যুবক নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। ঈদ ও পোশাক কারখানার ছুটির কারণে যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকায় নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
