নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার(এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেছেন, পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার আগেই প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের পূর্বশত্রুতা ছিল কিনা তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।একইসঙ্গে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা পুলিশ সুপার(এসপি)
গত সোমবার(৯ মার্চ) সকালে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগরভবনের সামনে পোশাক পরা অন-ডিউটি এক পুলিশ সদস্য ছিনতাইয়ের শিকার হন এসময় ছিনতাইকারীর তার ব্যবহত সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সনাক্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তারসহ অভিযান পরিচালনা করে লুট হওয়া গুলিসহ অস্ত্রটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ নিয়ে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় পুলিশ সুপার(এসপি) প্রেস ব্রিফিংয়েবলেন, “ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সারাদিন এবং রাতভর অভিযান চালানো হয়। সবশেষে রাত আনুমানিক সোয়া তিনটায় বন্দর থেকে সনাক্ত করা মিশাল নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করি। তার দেখানো জায়গা থেকে আমরা সেই ছিনতাই হওয়া পিস্তল, গুলি এবং ম্যাগাজিনসহ উদ্ধার করি। একই সাথে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত চাপাতি, চাকু এবং তার ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়।”
মঙ্গলবার(১০ মার্চ) ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য লুৎফর রহমান এই ঘটনায় থানায় একটি দস্যুতার মামলা করেছেন। এ মামলায় মিশালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রসহ আরও দু’জন আটক হন। তবে, তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার(এসপি)।
তিনি এময় স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, “নগরবাসীকে নিরাপদে রাখার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত ড্রাইভ চলছে। নির্বাচনের আগ থেকে এবং রমজানে ব্লক রেইড চলছে। অনেক ডাকাত ছিনতাইকারী ধরেছি এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। গতকাল পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ২৪ ঘন্টার ভিতরে আমরা মূল আসামি গ্রেপ্তারসহ অস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছি। সামনের দিনগুলোতে প্রতিদিন আমাদের অভিযান চলবে এবং আমরা মনে করি, নগরবাসী নিরাপদ থাকবে এবং সেটা করতে আমরা সক্ষম হবো।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল যেভাবে অভিযান চলছে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রমজানের দিনগুলোতে একইভাবে অভিযান চলবে। মানুষ যাতে নিরাপদে থাকে এবং নিশ্চিন্ত হয়ে বাইরে যেতে পারে। মানুষ নিশ্চিত থাকে যে এই শহর নিরাপদ।”
