মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের সব ব্যাংককে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক জরুরি সার্কুলারে এই কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারটি দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা ও উপশাখায় অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। দিনের বেলায় জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা কোনোভাবেই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না। এছাড়া অফিস ত্যাগের সময় লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর অফিশিয়াল গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বা অফিশিয়াল ভ্রমণে নিজস্ব গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে সম্ভব হলে গণপরিবহন বা কার-শেয়ারিং উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। একই সাথে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক ভবনে বা এর আশেপাশে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জার আলোকসজ্জা ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া নির্ধারিত ব্যাংকিং সময়ের বাইরে বাণিজ্যিক প্রচারমূলক ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড বা ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ রাখতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতকে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিয়ে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনাটিও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।