প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৭, ২০২৬, ৯:১৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৬, ২০২৬, ৯:০৭ এ.এম
গাইবান্ধায় অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে এসে ‘অবরুদ্ধ’ বিএডিসি প্রকৌশলী
গাইবান্ধা প্রতিনিধি।।
গাইবান্ধায় সেচ কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে এসে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের মুখে পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সেচ) আবুল হাসান মো. মিজানুল ইসলাম। তদন্ত শেষে বের হওয়ার সময় কৃষকরা তাঁর গাড়ি আটকে তদন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানান। এতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে বিএডিসি কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টায় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে গাইবান্ধা বিএডিসির (সেচ) কার্যালয়ে পৌঁছান মিজানুল ইসলাম। দিনভর তদন্তে তিনজন অভিযোগকারী কৃষকের লিখিত বক্তব্য নেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, ঘুষ ছাড়া সেচ লাইসেন্স, বিদ্যুৎ সংযোগ বা গভীর নলকূপ মেরামতের মতো সেবা পাওয়া যায় না। স্থানীয় বিএডিসি কার্যালয়ের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিএডিসির সেচ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় সেচ লাইসেন্স দিতে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিকেল তিনটার দিকে তদন্ত শেষে সরেজমিনে যাওয়ার জন্য অফিস থেকে বের হলে সদর উপজেলার অন্তত ৩০ জন ভুক্তভোগী কৃষক তাকে ঘিরে ধরেন। তাদের দাবি, মাত্র তিনজন নয়, অভিযোগ করা সকল কৃষকের বক্তব্য শুনে প্রত্যেকের এলাকায় গিয়ে তদন্ত করতে হবে। কৃষকদের এমন আচরণে গাইবান্ধা সদরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিএডিসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগের চিত্র ফুটে ওঠে।
তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তিনি নির্দিষ্ট তিনজন কৃষকের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব নিয়েই এসেছেন। অন্য কোনো লিখিত অভিযোগ তার কার্যপরিধির মধ্যে পড়ে না। এরপর তিনি গাড়িতে উঠলে কৃষকরা গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে তদন্ত সম্প্রসারণের দাবি না মানা পর্যন্ত গাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তা গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি আশ্বাস দেন, মাঠপর্যায়ে যতটা সম্ভব অভিযোগ যাচাই করা হবে। এরপর কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন তদন্তে যান।
দাঁড়িয়াপুড়া এলাকার কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, "আমরা অন্তত ৫০ জন কৃষক লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু শুধু এক টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়া তিনজনের অভিযোগ তদন্ত করতে আসা হয়েছে। আমাদের কথা না শোনায় আমরা তার গাড়ি আটকে দিয়েছি।"
শুধু গাইবান্ধা সদরেই নয়, সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলায়ও বিএডিসির একটি গভীর নলকূপ বন্ধ থাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় ওই নলকূপটি মেরামত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
এ বিষয়ে আবুল হাসান মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, "আমি যে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি, তার বাইরে অন্য কিছু দেখার সুযোগ নেই।"
কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সেচ কার্যক্রমে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
এসময় রাজশাহী বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বগুড়া সার্কেল) সঞ্চয় সরকার ও বিএডিসির গাইবান্ধার প্রকৌশলী জাকি সিদ্দিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
☞ Chief Adviser' Prabir Kumar Saha, ☞ Chief Advisor' Masuduzzaman Masud ✪ Adviser-' Mohammad Kamrul Islam, ☞Editor & publisher' Mohammad Islam.◑ Head office:-Motijheel C/A, Dhaka-1212, Corporate office:-B.B Road ,Chasara,Narayanganj-1400,✆-02-47650077,02-2244272 Cell:+88-01885-000126.web: www.samakalinkagoj.com, News-samakalinkagoj@gmail.com,✆+8801754-605090(Editor) সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১৮০,ফকিরাপুল পানির টাংকির গলি,মতিঝিল বা/এ, ঢাকা অবস্থিত 'জননী প্রিন্টার্স' ছাপাখানা হতে মুদ্রিত,®রেজি ডি/এ নং-৬৭৭৭, All Rights Reserved ©Daily samakalin kagoj paper authority সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©দৈনিক সমকালীন কাগজ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
Copyright © 2026 Daily Samakalin Kagoj. All rights reserved.