এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে উৎসব ভাতা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করতে অর্থমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটারও পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিও লেটারে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ তাদের কল্যাণ এবং সার্বিকভাবে শিক্ষা প্রদানের সার্বিক পরিষেবা উন্নয়ন সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বিগত সময়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নের পরিবর্তে অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার মাধ্যমে শিক্ষার বাজেট সংকোচন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবস্থানে নানা রকম বৈষম্য প্রতিফলিত হচ্ছে। এ সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতের আনুপাতিক বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে।’
এতে বলা হয়, ‘শিক্ষা খাতের ব্যয় বাড়ানো হলে শিক্ষার উন্নয়নসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও তাদের পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনসহ অন্যান্য বৈষম্য হ্রাস পাবে মর্মে বর্তমান সরকার মনে করে এবং সে মোতাবেক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৫১ জন। বর্তমানে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার আন্তরিক।সে লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক সামর্থ বিবেচনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্তমানে প্রদত্ত উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশের পরিবর্তে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে প্রদান করা প্রয়োজন।’
এতে বলা হয়, ‘ওই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধির কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বছরে অতিরিক্ত ১৯০ কোটি (একশত নব্বই কোটি) এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে ৯৫.৮০ কোটি (পঁচানব্বই কোটি আশি লক্ষ) টাকা, অর্থাৎ মোট ২৮৫.৮০ কোটি (দুইশত পঁচাশি কোটি আশি লক্ষ) টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে।’
এছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণ এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে উল্লিখিত খাতে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নসহ শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করা হয় ডিও লেটারে।
এতে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে বৃদ্ধিপূর্বক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত ১৯০ কোটি টাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ৯৫.৮০ কোটি (পঁচানব্বই কোটি আশি লক্ষ) টাকা বরাদ্দ প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
