নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণায় মডেল গ্রুপের কর্ণধার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠন মাসুদুজ্জামান। তিনি নির্বাচিত হলে আগামীতে মন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মাসুদ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলা পরিষদ সংলগ্ন ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যলয়ের সামনে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন, তিনি আরও বলেন “যদি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ভাইকে ভোট দিয়ে পাশ করিয়ে তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারি, ইনশাল্লাহ তিনি আগামীতে মন্ত্রী হবেন। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন মন্ত্রী হোক, তাই আমাদের দায়িত্ব তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা।”
খেজুর গাছ মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য। তাই আমরা এখানে এসেছি। উনি সৎ লোক, ধান্দাবাজ না। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কোনকিছুই তাকে ছোয় না। অতএব আমরা ভালো মানুষকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে চাই।”
মাসুদুজ্জামান আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী অত্যন্ত সুশীল এবং নরম মনের মানুষ। সারাক্ষণ মানুষ ট্রল করছে, বুলিং করছে, কিন্তু ওনার কোন প্রতিবাদ নেই। তাই মানুষ মনে করে, উনি বুঝি দুর্বল। উনি দুর্বল না, খোদায় ভীরু শুধু। অনেক প্রার্থী বুঝাতে চায়, উনি নারায়ণগঞ্জে থাকেন না, নারায়ণগঞ্জের মানুষ না, উড়ে এসে জুড়ে বসছে। উনি আমাদের নারায়ণগঞ্জের সন্তান এবং একজন ত্যাগী মানুষ। গণতন্ত্রের জন্য সারাজীবনে বহু কষ্ট করেছেন। আড়াই থেকে তিন বছর জেল খেটেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জোটের সাথে ছিলেন। জাতীয়তাবাদী দলের জন্য কাজ করেছেন। আমাদের দায়িত্ব এখন তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া। আমরা আগামী ১২ তারিখে সারাদিন খেজুর গাছে ভোট দেব।
তিনি বলেন, “আমি চার-পাঁচ আসনের সন্তান, দুই আসন নিয়ে আমাদের পরিবার। বহু আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী আমাদের এই অঞ্চলে আছেন। আমি এই অঞ্চলকে, নারায়ণগঞ্জকে ভালোবাসি বলে আমি ছেড়ে যাইনি। আমার বহু জায়গায় যাওয়ার সুযোগ ছিল। গাজীপুর, সাভার, ভালুকা অনেক কম পয়সায় জায়গা পেতাম, যা আজ স্বর্ণের দামে বিক্রি হয়, কিন্তু আমি যাইনি। আমি চেয়েছি এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে। আজকে ১০০ লোক থেকে ১৫ হাজার পরিবার হয়েছে; আরো কিছু করতে চাই। চার আসনে অনেক সমস্যা আছে।
তিনি বলেন, “এই চার আসনে আমাদের মুরুব্বি গিয়াসউদ্দিন সাহেব, আরেক চাচা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, বন্ধু শাহ আলম তিনজনই লড়ছেন। কিন্তু তাদের মনোনয়ন নেই। আপনারা লড়ছেন, লড়ুন। কিন্তু খেজুর গাছ মানে ধানের শীষ, ধানের শীষ মানেই খেজুর গাছ। আমরা ইনশাআল্লাহ মনির কাসেমীর পাশে থাকব। আপনারা যারা জাতীয়তাবাদীতে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদেরকে অনুরোধ করব মনির কাসেমীকে জয়যুক্ত করুন।
নির্বাচনী জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া, সাবেক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
