গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক যুবদল নেতার হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তাঁর দুই পা ভেঙে গেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদাহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আহত ব্যক্তি হলেন বরিশাল ইউনিয়নের দূর্বলাগাড়ী গ্রামের মিরু মন্ডলের ছেলে কাকন (৩৫)। তিনি বরিশাল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের ভাগনে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর কাকন জুনদাহ বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হামলায় কাকনের ডান হাতের একটি আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর দুই পা ভেঙে গেছে। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালের বিছানায় কাকন জানান, হঠাৎ করেই কয়েকজন এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের তিনি চিনতে পারেননি এবং কী কারণে হামলা হয়েছে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, আহত কাকন দলের সক্রিয় কর্মী। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। বরিশাল ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শামীম প্রধান এক বিবৃতিতে বলেন, জুনদাহ বাজারের ঘটনার সঙ্গে জামায়াত বা ইসলামী শিবিরের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ করছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল মিয়া বলেন, কয়েকজন এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাকনকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। তারা কে বা কারা তা শনাক্ত করতে পারেননি তারা।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত ব্যক্তি বরিশাল ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী। হামলার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।