নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৩ কোটি পাঠ্যবই এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চরম বই সংকটে রয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মুদ্রণ ও সরবরাহজনিত জটিলতায় তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বছরের প্রথম দিন এই বিদ্যালয়ে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কোনো বই-ই আসেনি। গতকাল রবিবার পর্যন্ত সপ্তম শ্রেণির কেবল বাংলার দুটি বই এবং অষ্টম শ্রেণির পাঁচটি বিষয়ের বই এসেছে। প্রাথমিক স্তরের সব বই এবং ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির অধিকাংশ বই পাওয়া গেলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বড় একটি অংশ এখনো বাকি।

ঢাকার সেগুনবাগিচার রমনা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে এই থানার শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মারুফের সঙ্গে কথা হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “ তাদের অধীনে ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার বই বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির সব বই বিতরণ করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয় বাদে বাকি সব বিষয়ের বই এসেছে। আর সপ্তম শ্রেণির জন্য এসেছে বাংলার দুই বিষয়ের বই।”

এনসিটিবির তথ্যমতে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ৩০ কোটি ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের (ইবতেদায়িসহ) বই সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজারের বেশি। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই স্তরের ৮৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনো ২ কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি (১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ) বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

এনসিটিবি আশা করছে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ছাপার কাজ শেষ হবে। তবে মুদ্রণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল ছাপা শেষ হওয়াই যথেষ্ট নয়; বইগুলো বাঁধাই করা, সরবরাহপূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে।

এদিকে শিক্ষকরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় শিক্ষকরা পুরোনো বই দিয়ে পাঠদান করতে পারছেন না। ফলে নতুন বই পেতে বিলম্ব হওয়ায় নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি বাড়ছে।

ঢাকার বাইরেও বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বইয়ের সংকট তীব্র। নেত্রকোনা জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৬ লাখ ৫ হাজার বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখনো ৪ লাখ ১৩ হাজারের বেশি বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো গণিত বই পায়নি।

বইয়ের সংকট নিয়ে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদী।