মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ভুয়া মালিক সেজে দলিল জাল করে প্রতারণা করা মামলায় ২ আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডবিধি আইনের ৪৬৮ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ৪৬৭ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও উভয় ধারায় ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।একই সাথে অপর দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় আরো ২ বছরের কারাদন্ডের রায় ঘোষনা করেন।মঙ্গলবার(২৯ এপ্রিল)বিকেল ৩ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন এ রায় ঘোষনা করেন।রায়ের সময় আসামীরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার টিটিরচর গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম(৫৮),মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউসিয়া বড় কান্দি গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে নেছার উদ্দিন(৩২)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো:বুলবুল আহমেদ।মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে,২০২০ সালের ১৬ মার্চ আসামীরাযোগসাজসে মামলার বাদি নিজামউদ্দিন মৃধার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে সিরাজদিখান সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করে।পরে ওই দলিল দিয়ে আসামিরা সম্পত্তি আত্মস্বাত করার চেষ্টা করলে বাদি বিষয়টি জানতে পারে যে তার নাম ও স্বাক্ষর নকল করে দলিলটি করা হয়েছে।এঘটনায় সিরাজদিখান উপজেলার চান্দেরচর গ্রামের মৃত কলন্দর মৃধা ওরফে কলমতোর মৃধার ছেলে নিজাম উদ্দিন মৃধা ওরফে মিজান মাস্তান(৫৫)বাদি হয়ে ২০২২ সালে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-২ এ মামলা করলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সি.আই.ডি কে নির্দেশ দেন।তদন্তে আসামিদের জাল দলিলেল বিষয়টি প্রমাণিত হয়।মামলাটি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীনে থাকা অবস্থায় ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।এ ব্যাপারে বাদি পক্ষের আইনজীবী আলেয়া খাতুন আলো জানান,২০২০ সালের ১৬ মার্চ আসামীরা যোগসাজশে আমার মোয়াক্কেল নিজামউদ্দিন মৃধার সম্পত্তি হাসিল করার জন্য তার নাম ও স্বাক্ষর জাল করে সিরাজদিখান সাব রেজিষ্টি অফিসে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করে।বিষয়টি নিজামউদ্দিন মৃধা জানতে পেরে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে।এ ঘটনায় আদালতে মামলা করলে আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ২ আসামীতে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডবিধি আইনের ৪৬৭,৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা বাদী পক্ষ সন্তুষ্ট হয়েছি।